Free Essay

Sme in Bangladrsh

In: Business and Management

Submitted By alfaz
Words 9219
Pages 37
b¨vkbvj KÝvj‡Ukb Ab GmGgB †W‡fjc‡g›U

B‡j±ªwb· Ges B‡jw±ªK¨vj wkí LvZ m¤¢vebv, GwM‡q hvIqvi c‡_ evav I Zv `~i Kivi Dcvq

১৭ জুলাই, ২০১২

খোন্দকার সিদ্দিক-ই-রব্বানী

অধ্যাপক, বায়োমেডিকেল ফিজিক্স এন্ড টেকনালজী বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ÿz`ª I gvSvwi wkí dvD‡Ûkb i‡qj UvIqvi, 4 cvš’c_, KvIivb evRvi, XvKv-1215
†dvb: 8142983, 9142907, d¨v·: 8142467
B‡gBj: info@smef.org.bd, I‡qemvBU: www.smef.org.bd

b¨vkbvj KÝvj‡Ukb Ab GmGgB †W‡fjc‡g›U

B‡j±ªwb· Ges B‡jw±ªK¨vj wkí LvZ m¤¢vebv, GwM‡q hvIqvi c‡_ evav I Zv `~i Kivi Dcvq

Dc‡`óv
G.we.Gg. †Lvi‡k` Avjg e¨e¯’vcbv cwiPvjK

wiwfDqvi
†gvt gywReyi ingvb, Dc-gnve¨e¯’vcK, GmGgB dvD‡Ûkb
Avey gÄyi mvCd, †cÖvMÖvg g¨v‡bRvi, GmGgB dvD‡Ûkb
AwLj iÄb Zid`vi, †cÖvMÖvg Awdmvi, GmGgB dvD‡Ûkb
†gvt Rqbvj Avãxb, †cÖvMÖvg Awdmvi, GmGgB dvD‡Ûkb

Kfvi wWRvBb: Amxg Kzgvi nvj`vi

KwcivBU: © 2012 GmGgB dvD‡Ûkb

AvBGmweGb:

cÖKvkbvq ÿz`ª I gvSvwi wkí dvD‡Ûkb i‡qj UvIqvi, 4 cvš’c_
KvIivb evRvi, XvKv-1215
†dvb: 8142983, 9142907, d¨v·: 8142467
B‡gBj: info@smef.org.bd
I‡qemvBU: www.smef.org.bd

g~j¨:

g~`ªY:

সূচীপত্র পৃষ্ঠা

সূচনা: কিছু মৌলিক বিষয় ও ঐতিহাসিক পটভুমি 4

প্রযুক্তি নির্ভর ক্ষুদ্র শিল্পের সম্পর্কে আরও কিছু চিন্তা 8

এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা ও তা দূর করার উপায় স্বল্প, মাঝারী ও দীর্ঘ মেয়াদী 10

মন্তব্য 19

ক) কিছু মৌলিক বিষয় ও ঐতিহাসিক পটভুমি

ক১। সত্যিকারের আয়ঃ কৃষি ও শিল্প

একটি দেশের সত্যিকারের আয় আসে কেবলমাত্র দুটি খাত থেকে – কৃষি ও শিল্প। এ দুটি খাতেই শূণ্য থেকে উৎপাদন হয়, মানুষের মোট আয়ে কিছু না কিছু যোগ হয়। তাই দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি সত্যিকারের আয় ছাড়া সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, জিডিপি তে যে মোট আয় দেখানো হয় তার মধ্যে অনেকখানিই সেবাখাতের, যা কেবল অর্থের হাত বদল, সত্যিকারের আয় নয়। তাই দেশের সত্যিকারের আয় বাড়ানোতে কৃষি ও শিল্প খাতদুটিকে আলাদা করে দেখতে হবে, জিডিপি এর ভিতর মিশিয়ে নয়।

ক২। দারিদ্র দূরীকরণের প্রধান উপায় কর্ম সংস্থান, আর তার জন্য প্রয়োজন কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্পের স্বাধীনতা

দারিদ্র দূরীকরণ তৃতীয় বিশ্বের প্রতিটি দেশের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের প্রতিটি মানুষের আহার, বাসস্থান ও চিকিৎসা সহ মৌলিক চাহিদার ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের একটি প্রধান দায়িত্ব। এটি কেবল হতে পারে প্রতিটি কর্মক্ষম মানুষের কর্ম সংস্থান হলে। অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি যে কেন্দ্রে অর্থ ও খাদ্যের পাহাড় জমে থাকা অবস্থাতেও দেশের মানুষ দরিদ্র থেকে বা না খেয়ে মারা যেতে পারে। কারণ কর্ম সংস্থান ছাড়া অর্থ ও খাদ্য দেশের আনাচে কানাচে প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় না। উদাহরণ হিসেবে দেখতে পাই, আমাদের দেশে ইদানীং সোশাল সেফটি নেট এর আওতায় হাজার হাজার কোটি টাকা বিলিয়ে দেয়া হচ্ছে, কিন্তু তার কতটুকু সত্যিকারের দরিদ্রদের হাতে ঠিকমত পৌঁছাচ্ছে? বলা হয় দুর্নীতি নির্মুল করা গেলে উদ্দেশ্য সফল হবে, কিন্তু বাস্তবতার আলোকে চিন্তা করতে হবে, আদৌ কি তা সম্ভব? বরঞ্চ এতে দুর্নীতি বাড়ছে। তা ছাড়া, দুর্নীতি দূর করা গেলেও এ ধরণের ব্যবস্থা বেশীদিন চালু রাখা সম্ভব নয়, চালু রাখাটাও ঠিক নয়। কারণ, এ ব্যবস্থা মানুষকে কর্ম বিমুখ করে দারিদ্রকে আরও বাড়িয়ে দেয়। যদি সবার কর্মসংস্থান হয়ে স্বচ্ছ্বলতা আসে তবে বৃদ্ধ পিতা-মাতা বা প্রতিবন্ধী ভাই-বোনকে না খেয়ে থাকতে হবে না। তাই প্রতি বছর দেশের মোট জনসংখ্যার কতজনের কর্মসংস্থান করা গেল সেটিকে অর্থনৈতিক হিসেবে মূল মানদন্ডের একটি বিবেচনা করা উচিৎ।

কর্ম সংস্থান বিষয়ে একটু আলোচনা করা যাক। আমাদের দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রায় ১.৪%, পনেরো কোটি মানুষের দেশে প্রতি বছর তাই যোগ হয় প্রায় ২০ লক্ষ বাড়তি মানুষ। দারিদ্র দূরীকরণ করতে চাইলে প্রতি বছর এ ২০ লক্ষ মানুষের নতুন কর্ম সংস্থান তৈরী করতে হবে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক এর কর্ম সংস্থান করে কৃষি খাত। বাকী ১০ লক্ষের কর্ম সংস্থান কোথায় হতে পারে? বৃহৎ শিল্প এ সমাধান দিতে পারবে না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় ইদানীং বিখ্যাত স্কয়্যার গ্রুপের মূল উদ্যোক্তা জনাব স্যামসন চৌধুরীর মৃত্যুর পর বিভিন্ন আলোচনায় জানা গেল যে প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো এ প্রতিষ্ঠানটি মোট প্রায় ৪৫ হাজার কর্ম সংস্থান করেছে। টাটা কোম্পানী প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের যে বিনিয়োগ প্রস্তাব দিয়েছিল তাতে সর্বসাকুল্যে মোট প্রায় ১০ হাজার কর্মীর কথা বলা হয়েছিল যার নিয়োগ হবে বহু বছর ধরে। সহজেই বোঝা যাচ্ছে এ সংখ্যাগুলো যত বড়ই মনে হোক না কেন, দেশের কর্ম সংস্থানের প্রয়োজনের তুলনায় তা অতি, অতি নগণ্য। প্রতি বছর এরকম ১০০টি বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন হলেও প্রয়োজনীয় কর্ম সংস্থান হবে না। আর সরকারী ও বেসরকারী সেবাখাতের চাকুরী সংখ্যাও প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য। তাই কৃষির বাইরে কর্ম সংস্থানের একমাত্র সমাধান হল সারা দেশে ক্ষুদ্র শিল্পের প্রসার। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত সারা বাংলাদেশে প্রতি বছর যদি লক্ষাধিক ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে ওঠে তবে তা এ ১০ লক্ষ মানুষের কর্ম সংস্থান করতে পারবে। তাই আমাদেরকে গ্রামে-গঞ্জে, ঘরে ঘরে ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে তোলার মত পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।

তাই শিল্পের মধ্যেও আমাদেরকে বিশেষ করে আলাদা করে নিতে হবে ক্ষুদ্র শিল্পকে। আবার ক্ষুদ্র শিল্পের মধ্যেও বিশেষ করে দেখতে হবে নিজস্ব প্রকৌশল ও প্রযুক্তি ভিত্তিক ক্ষুদ্র শিল্পকে, তার মধ্যে আবার বিশেষ করে দেখতে হবে যেগুলো দেশের মানুষের জীবনের মান বাড়ানোর জন্য পণ্য তৈরী করে এবং কৃষিতে সহায়ক ভুমিকা পালন করে সেগুলোকে। বিষয়টি জরুরী বিধায় পরে আবারও এ নিয়ে আলোচনা করব। তাহলে দেখতে পাচ্ছি কর্ম সংস্থানের মাধ্যমে এ দেশের মানুষকে ক্ষুধা ও দারিদ্র থেকে বের করে নিয়ে আসার জন্য মাত্র দুটি হাতিয়ার আমাদের হাতে রয়েছে - কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্প। তাই এ দুটি খাতে দেশের সাধারণ মানুষ যেন নিজস্ব মেধা খাটিয়ে নির্বিঘ্নে এগিয়ে যেতে পারে তার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ণ করতে হবে। এক্ষেত্রে বলা উচিৎ যে চলতি নিয়ম কানুনের বেশীরভাগই এসেছে বৃটিশ ঔপনিবেশিক আমল থেকে, যার একটি বড় উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় শিল্পকে ধ্বংস করে বৃটেনের তৈরী পণ্য চালু করা। এ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে আমরা উন্নত বিশ্বের বর্তমান অবস্থাকে অনুকরণ করে থাকি, যা আমাদের জন্য যথাযথ নয়। এজন্য এসব নিয়মকানুনের অনেকগুলিরই আমূল পরিবর্তন দরকার। এ বিষয়ে পরে আরও আলোচনা করব।

আমাদেরকে বুঝতে হবে যে দেশের অর্থনীতিকে একটি পিরামিডের মত চিন্তা করলে তার ভিত্তিই হচ্ছে এসব প্রান্তিক কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোগগুলো। এদেরকে প্রত্যেককে একক ভাবে দেখলে নিতান্ত মামুলী ও মূল্যহীন মনে হবে। কিন্তু দেশের কোটি কোটি মানুষের প্রত্যেকের সামান্য বিনিয়োগ, সামান্য প্রচেষ্টা, সামগ্রিকভাবে দেশের জন্য যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ তৈরী করতে পারে তা আমরা বোধ হয় একেবারেই বুঝি না। তাই আমরা মাত্র মিলিয়ন ডলার বিদেশী বিনিয়োগ পাবার জন্য প্রাণান্ত হচ্ছি, কর ও ভ্যাটের বিষয়ে অনেক ছাড় দিয়ে দিচ্ছি। লাভের ও উচ্চ হারের বেতনের অধিকাংশই বিদেশে নিয়ে যাবার সুবিধা করে দিয়েছি। কিন্তু দেশের ভিতরের যে সব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার এনে দিতে পারত, যার লাভের অংশটিই পুরোটিই দেশে থাকত, যার পণ্য ব্যবহারে দেশের মানুষের জীবন ধারণের মান বাড়ত, যার ফলে দেশের মানুষের আত্ম সম্মান ও আত্মমর্যাদা বাড়ত, তার জন্য তেমন কোন সুবিধা তো দিচ্ছিই না, বরঞ্চ বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করছি। এসব ক্ষুদ্র শিল্পের উদ্যাক্তাদেরকে দুর্নীতিবাজ সরকারী কর্মচারীদের সহজ শিকার বানিয়ে দিচ্ছি। আসলে আমরা পিরামিডের চূড়া দেখেই অভিভূত হয়ে যাই, নীচের ভিতটাকে দেখতে পাই না। এর ফলে যুগ যুগ ধরে ভিত্তিবিহীন পিরামিডের চূড়া তৈরীর চেষ্টার পরও বার বারই সে পিরামিড ধ্বসে পড়ছে, যা হওয়াটাই স্বাভাবিক। স্বাধীনতার ৪১ বছরেও আমরা প্রযুক্তিগত শিল্পে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারি নি।

অন্য দিকে কৃষি খাতে আমরা কিন্তু অভুতপূর্ব সাফল্য পেয়েছি। বিদেশ থেকে খাবার এনে চলতে পারব না এ উপলব্ধি হওয়ায় কৃষককে জ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় সরবরাহ দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর করেছি। তাকে কঠিন কোন নিয়ন্ত্রণমূলক নীতিমালার মধ্যে আটকিয়ে না ফেলতে আমরা কৃষিপণ্য থেকে সব কর তুলে নিয়েছি। সরকারী নীতিমালার এ ধরণের কিছু পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে প্রাচীন লাঙ্গল ও কিছু আধা যান্ত্রিক কৌশল ব্যবহার করেই এ দেশের নিরক্ষর কৃষকেরা স্বাধীনতার পর থেকে দ্বিগুণ হয়ে যাওয়া ১৫ কোটি মানুষের খাদ্য উৎপাদন করতে পারছে, মাছের চাষ, হাঁস মুরগী পশুপালনের মাধ্যমে দেশকে খাদ্যে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলেছে। এখানে একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য। এ কৃষকদের উৎপাদনের বাজার কিন্তু তার আশেপাশেই, এর জন্য তাকে অপরিচিত বিদেশের কঠিন বাজারকে সামনে রেখে এগুতে হয় নি।

অন্যদিকে শিল্পখাতে দেশের ১৫ কোটি মানুষের বিশাল ও সহজ বাজার যে আমাদের হাতের মুঠোয়, তা আমাদের চোখ এড়িয়ে গেছে, এটি একটি বড় দুঃখ। যুগ যুগ ধরে বিদেশে রপ্তানীকে বিশাল করে তুলে ধরে উন্নত বিশ্বের কঠিন বাজার ধরার চ্যালেঞ্জকে দেশের শিল্পোদ্যাক্তাদেরকে সামনে দিয়ে দিয়েছি, কিন্তু দেশের ১৫ কোটি মানুষের বিশাল ও সহজ বাজারকে আমরা তুলে দিয়েছি বিদেশীদের হাতে, দেশকে সারা পৃথিবীর বাজার করে তুলেছি। যদি দেশের মানুষের বাজারকে প্রাধাণ্য দিয়ে নীতিমালা করতাম তাহলে হয়ত এতদিনে দেশ অনেক এগিয়ে যেত। দেশের বাজারকে এখনও আমরা কেবল ‘ইমপোর্ট সাবস্টিটিউশন’ এর কথা বলে থাকি। কিন্তু আমাদের দেশের প্রযুক্তিবিদেরা সুস্থ ব্যবসায়িক পরিবেশ পেলে দেশের মানুষের চাহিদা অনুসরণ করে নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে পারতেন – তা কিন্তু ‘ইমপোর্ট সাবস্টিটিউশন’ নয়। তখন দেখা যেত যে আমাদের মত অনেক তৃতীয় বিশ্বে এসব পণ্যের ব্যাপক চাহিদা আছে। আমরা তখন বুক ফুলিয়ে নিজের প্রযুক্তিতে গড়া পণ্য রপ্তানী করতে পারতাম। কেবল সস্তা শ্রম দিয়ে নয়। নতুন নতুন পণ্য তৈরী করে দেশে ও বিদেশে ছড়িয়ে দিতে পারতাম। বর্তমান নীতিমালার মাধ্যমে দেশের মানুষের সস্তা শ্রমের সুযোগ নিতে দিচ্ছি ধনী দেশের মানুষদেরকে, যার ফলে তারা কম দামে জামাকাপড় পরতে পারছে। বস্তুতঃ এর মাধ্যমে আমরা ধনী দেশের মানুষদেরকে ভর্তুকি দিচ্ছি। বিনিময়ে দেশেরে মানুষের শ্রমের মূল্যকে বাড়তে দিচ্ছি না, দেশের নদী-পুকুরগুলোতে এসব শিল্পের বর্জ্য ফেলে বিষাক্ত করে তুলেছি, সেখানে কোন জীবিত মাছ বা প্রাণী আর নেই। আমাদের গরীব মানুষ আগে কমপক্ষে মাছ থেকেও যে প্রয়োজনীয় প্রোটিন যোগার করতো, সে সুযোগ থেকেও তাকে বঞ্চিত করেছি।

এ সব দুঃখজনক পরিস্থিতির জন্য আমাদের ঐতিহাসিক কিছু কারণও দায়ী যা এখানে একটু আলোচনা করতে চাই।

ক৩। ঐতিহাসিক পটভুমিতে কর নীতিমালা, ব্যবস্থাপনা ও ঔপনিবেশিক মানসিকতা

ব্রিটিশ ঔপনিবেশ আমলে আমাদের দেশের শিল্প ধ্বংস করে সেখানে বৃটেনের পণ্য চালু করার জন্য যে নীতিমালা করা হয়েছিল, তার প্রধান হাতিয়ার ছিল কর নীতিমালা। আমদানী পণ্যকে শুল্কমুক্ত করে ও দেশীয় উৎপাদনের উপর উচ্চ হারে আবগারী শুল্ক আরোপ করে দেশীয় পণ্যকে প্রতিযোগিতায় হারিয়ে দিয়ে এ ধ্বংসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আর এ শুল্ক আদায় করার জন্য যে সরকারী কর্মচারী দল তৈরী করা হয়েছিল তারা সরকারের পতাকা হাতে নিয়ে অসীম ক্ষমতাধর হয়ে ওঠে। দুর্নীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রাণী করার একটি মোক্ষম অস্ত্র তারা পেয়ে যায়। এর ফলে জীবন ধারণে অক্ষম হয়ে ঊনবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে বাংলাদেশে বহু তাঁতী মৃত্যুবরণ করে। দেশ দু-দুবার স্বাধীন হবার পরও আমরা কিন্তু ঔপনিবেশিক আমলের মানসিকতা, রীতিনীতি ও পদ্ধতিতে তেমন কোন ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারি নি, বরঞ্চ ঔপনিবেশিকতার মানসিকতা আরও বেড়েছে, সরকারী কর্মচারীরা নিজেদেরকে এখন আগের থেকেও বেশী ক্ষমতাধর ভাবেন ও আচার আচরণে তা প্রকাশ করেন। উদাহরণস্বরূপ, আজকাল উচ্চ পদস্থ সরকারী কর্মচারীদেরকে ‘কর্মকর্তা’ নামে বলা হয় যার ইংরেজী অনুবাদ করলে হয় ‘ওয়ার্ক মাষ্টার’। বৃটিশ ঔপনিবেশিক আমলে ‘ওয়ার্ক মাষ্টার’ বা ‘কর্মকর্তা’ নামটির উপস্থিতি ছিল না, পাকিস্তান আমলেও এর ব্যবহার শুনিনি। যে শব্দটি ছিল তা হল ‘সিভিল সার্ভেন্ট’, সুন্দর শব্দে ভাবানুবাদ করলে যা হয় ‘গনসেবক’। এতেই বোঝা যায় যে আমরা মানসিকতায় আগের থেকেও আরও বেশী ঔপনিবেশিক হয়েছি। (উল্লেখ্য ‘কর্মকর্তা’ শব্দটি বাংলাদেশের সংবিধানে নেই, তাই এ লিখাতে রাষ্ট্র যন্ত্রে নিয়োগপ্রাপ্ত সবাইকে ‘কর্মচারী’ হিসেবে উল্লেখ করব)

আমরা যারা শিক্ষিত ও শহরে থাকি, তারা নিজেদের অসুবিধা ও অনুধাবনের কথা কিছুটা হয়ত সরকারের কাছে পৌঁছাতে পারি, নিজেদের অধিকারের কথা বুঝে তার প্রতিকার চাইতে পারি, কিন্তু গ্রামের অশিক্ষিত ও স্বল্প শিক্ষিত সাধারণ মানুষদের পক্ষে নিজেদের অসুবিধার কথা সরকারের কাছে পৌছানো বর্তমান ব্যবস্থায় অসম্ভব। বস্তুতঃ তারা এখনও স্বাধীনতার আস্বাদ পায় নি, এখনও সরকারের কেন্দ্র থেকে উৎসারিত ক্ষমতায় ক্ষমতাবান ব্যক্তিদেরকে প্রাচীন রাজতন্ত্রের প্রতিভূ হিসেবেই তারা দেখে, কারণ গণতান্ত্রিক সরকারের কর্মচারীরাও ঔপনিবেশিক সে ক্ষমতার আস্বাদটি পরিপূর্ণ ভাবে, এমনকি আরও বেশী করে পেতে চান। এ অবস্থা পরিবর্তন করতে স্বাধীনতার পর কোনো সরকারই চেষ্টা করে নি, তা সে গণতান্ত্রিক হোক বা অগণতান্ত্রিক হোক, কারণ এ ব্যবস্থাটি তাদের নিজেদেরকেই ‘কর্তৃত্বের’ আনন্দ দেয়, যা থেকে স্ব-উদ্যোগে বেরিয়ে আসতে কেউই চায় না। বরঞ্চ তার উল্টোটিই হতে দেখা গেছে। আরও একটি উদাহরণ বিষয়টিকে পরিষ্কার করে দেবে। কয়েক বছর আগে যখন বিচার ব্যবস্থাকে নির্বাহী ব্যবস্থা থেকে আলাদা করার চেষ্টা করা হয়, তখন নির্বাহী বিভাগের কর্মচারীরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে দেখে রীতিমত রাষ্ট্রযন্ত্র বন্ধ করে দেয়ার মত হুমকি দেন যা প্রায় রাষ্ট্রদ্রোহিতার পর্যায়ে পড়ে। শেষে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষমতা তাদেরকে ফিরিয়ে দিয়ে ‘সমাধান’ করা হয়। বলা বাহুল্য, মোবাইল কোর্ট একটি ঔপনিবেশিক কালা কানুন, কারণ এক্ষেত্রে আত্ম-সমর্থনের কোনো সুযোগ থাকে না। আমাদের শিক্ষিত সমাজের উপর যদি এ ধরণের একটি শাসন ব্যবস্থা থাকত তবে আমরা তাকে ‘অগণতান্ত্রিক’ ও ‘কালা কানুন’ আখ্যা দিয়ে আন্দোলন করে অনেক আগেই বন্ধ করে দিতাম। এবার ফিরে আসি উদাহরণটিতে। যিনি সরকারের নির্বাহী বিভাগে কাজ করবেন তার জন্য মোবাইল কোর্ট পরিচালনা বিশাল কিছু হবার কথা নয়। অথচ এ ধরণের একটি অগণতান্ত্রিক মোবাইল কোর্টের ক্ষমতা হাতে পাওয়ার জন্য সরকারী কর্মচারীদের তীব্র আকাঙ্খা, আন্দালন ও আস্ফালন প্রমাণ করে যে নিশ্চয় এ ব্যবস্থাতে তাদের নিজের জন্য আনন্দদায়ক, বা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির কিছু বিষয় আছে। দেশের অন্য মানুষের স্বার্থের কথা চিন্তায় নিজেদের চাকুরী হারানোর মত ঝুকিঁ নিয়ে তাদের এ ধরণের আন্দোলনের ডাক দেয়ার কথা নয়। এ উদাহরণ থেকেও বোঝা যায় আমরা সাধারণ মানুষের উপর কি ধরণের শাসন চালাচ্ছি – তা ঔপনিবেশিক শোষণের থেকে খুব একটা ভিন্ন নয়, বরঞ্চ কোন কোন ক্ষেত্রে আরও বেশী।

উপরের কথাগুলো আজকের আলোচ্য বিষয়ের জন্য অতীব জরুরী, কারণ সাধারণ মানুষ কৃষি বা ক্ষুদ্র শিল্প পরিচালনা করতে গেলেই সেখানে অর্থ আয়ের ব্যাপারটি ঘটে, এবং এ মানুষগুলো সহজ সরল। সেখানেই প্রান্তিক পর্যায়ে আপাত: ‘অসীম ক্ষমতাধর’ এসব সরকারী কর্মচারীদের ক্ষমতা প্রয়োগের ঘটনাটি বেশী ঘটে।

সারা দেশে কৃষক যেন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে সেটি আমাদের ধারণায় আছে, এবং তাকে ঢালাওভাবে সহযোগিতা দেয়ার জন্য নীতিমালা করা হয়েছে। তাকে সহযোগিতা করার জন্য প্রয়োজনীয় সার-সরঞ্জাম, তথ্য ও প্রযুক্তি পৌঁছে দেয়ার পিছনে দেশকে যে খরচ করতে হবে সেটিও আমাদের ধারণায় আছে। তাকে কর থেকে মুক্ত করে দিয়েছি যেন আর্থিকভাবে সে ভার মুক্ত হতে পারে। কিন্ত এ দেশে করমুক্ত হবার সবচেয়ে বড় সুবিধা হল দুর্নীতিবাজ কর কর্মচারীদের হয়রাণী থেকে মুক্তি পাওয়া। যার জন্য পত্রিকা, টেলিভিশনে আমরা সফল কৃষি উদ্যোক্তাদেরকে দেখাতে পারছি, কিভাবে তারা কত বিনিয়োগ করে কত লাভ করতে পারছে তা প্রচার করতে পারছি, ফলে অন্যরাও কৃষিতে উৎসাহিত হয়েছে, মাছের চাষ করেছে, হাঁস-মুরগী-ছাগল গরু পালন শুরু করেছে। এর ফলে একাত্তরের সাড়ে সাত কোটি মানুষ এখন পনেরো কোটি হয়েছে, কিন্তু তার খাবারের প্রায় পুরোটিই আমাদের কৃষকেরা উৎপন্ন করতে পেরেছে, এমনকি সেই পুরোনো আমলের বলদ ও লাঙ্গল দিয়েই, যদিও ইদানীং কিছু যান্ত্রিক ব্যবস্থা আসতে শুরু করেছে।

কিন্তু ক্ষুদ্র শিল্পের বিষয়ে কি আমরা এ ধরণের পরিবেশ তৈরী করতে পেরেছি? সোজা উত্তর হচ্ছে – না। সহায়ক কর নীতিমালার মাধ্যমে কৃষিতে আমরা উল্লেখযোগ্যভাবে সফল হতে পারলেও ক্ষুদ্র শিল্পের ক্ষেত্রে নিদারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছি। সেখানে সহায়ক কর নীতিমালা দিতে পারিনি। কৃষকের মত আজকে একজন ক্ষুদ্র শিল্পোদ্যোক্তাকে কি টেলিভিশনে নিয়ে সবার সামনে দেখাতে পারব যে সে ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপন করে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করেছে? সে কখনোই নিজেকে সবার সামনে এভাবে উপস্থাপিত হতে দিতে চাইবে না, কারণ সে জানে যে প্রচার হবার পর দিনই একজন দুর্নীতিবাজ কাস্টমস কর্মচারী এসে তার কাছে উৎকোচ চাইবে, না পেলে তাকে হয়রানী করতে শুরু করবে। উদ্যোক্তা যতপরিমাণ বিক্রয় করেছে তার থেকে অনেক বেশী বিক্রয় হয়েছে দাবী করে তার উপর অনেক বেশী কর আরোপ করে দেবে। তাকে কর ফাঁকিবাজ, অপরাধের আসামী বলে তিরস্কার করবে, তার বিরুদ্ধে মামলা করে দেবে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় সহজ সরল এ উদ্যোক্তার পক্ষে মামলা পরিচালনা করে জিতে আসা অসম্ভব ব্যাপার। এ জন্য তাকে যে সময় দিতে হবে ও টাকা পয়সা খরচ করতে হবে তাতে তার শিল্প উদ্যোগটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে। তাছাড়া এ ধরণের অপমান সইতে পারা খুব কম মানুষের পক্ষেই সম্ভব। দেখা যাবে এর পরই তার উদ্যোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এজন্য ক্ষুদ্র শিল্পের উদ্যাক্তারা টেলিভিশনে তো নয়ই, প্রদর্শনীতেও অংশ নিতে ভয় পান। কৃষির মত সারা দেশে মানুষ যখন তার নিজের উদ্যোগে ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে তুলতে পারবে, বুক ফুলিয়ে বলতে পারবে যে, ‘আমি একজন সফল শিল্পোদ্যোক্তা’, যখন এ জন্য তাকে কেউ হয়রাণী করতে আসবেনা, তখনই দেশের উন্নতি হওয়া সম্ভব হবে। এ জন্য ক্ষুদ্র শিল্পকে কিছু স্বাধীনতা দিতে হবে ঢালাও নীতিমালার মাধ্যমে। আমলাতন্ত্রের সীমিত মানসিকতার মধ্যে তাকে আটকানো উচিৎ হবে না। সে যদি কোন অন্যায় করে তাকে প্রথমে সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে, তার পরেও না হলে সাবধান করতে হবে, তারপরও না হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু তা করতে হবে এলাকার সিভিল সোসাইটি ও সংশ্লিষ্ট সমিতির মাধ্যমে, সরকারী আমলাতন্ত্রের মাধ্যমে সিদ্ধান্তে নয়।

খ) প্রযুক্তি নির্ভর ক্ষুদ্র শিল্পের সম্পর্কে আরও কিছু চিন্তা

খ-১। জীবনের গুণগত মান ও স্বাধীনতা

আরও যেগুলো মূল মানদন্ড হিসেবে আসা উচিৎ তা হল জীবনের গুণগত মান ও স্বাধীনতা। কেবলমাত্র দারিদ্র দূরীকরণ যদি লক্ষ্য হয়, তবে তা মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়ার বিনিময়েও হতে পারে, কারণ একজন মানুষকে ‘দাস’ বানিয়েও দারিদ্র দূরীকরণ করতে পারে। বিভিন্ন যুক্তি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ‘দড়ি’ দিয়ে না বেঁধেও বিভিন্ন উপায়ে মানুষকে ‘দাস’ বানিয়ে ফেলা সম্ভব, যার অনেক উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। তাছাড়া কোনো মানদন্ডে ‘দারিদ্র’ দূর হয়েছে হয়ত বলা যাবে, কিন্তু তার জীবনের গুণগত মান অনেক নীচু থেকে যেতে পারে। পৃথিবীর যাবতীয় উপকরণকে ব্যবহার করে জীবনকে আরামপ্রদ করতে প্রযুক্তির ব্যবহারকে গুণগত মানের একটি মানদন্ড হিসেবে বিচার করা যেতে পারে। সে বিচারে আমাদের দেশের বেশীরভাগ জনগোষ্ঠীর স্থান কোথায়? আমরা শহুরে শিক্ষিতরা দেশের রাষ্ট্রযন্ত্রের কাছাকাছি থাকায় নিজেদের আয় রোজগারের ব্যবস্থা এমনভাবে করে নিয়েছি যে অনেক বেশী আয়ের দেশ থেকে আসা গাড়ী, এয়ার কন্ডিশনার, ফ্রিজ, টেলিভিশন, কম্পিউটার, ইত্যাদি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করে জীবনকে উপভোগ করতে পারি, অবসর বিনোদন করতে পারি, সাহিত্য ও বিজ্ঞান চর্চা করতে পারি। কিন্তু গ্রামে থাকা দেশের বেশীরভাগ মানুষ, বা আমাদের শহুরে জীবনকে সেবাদানকারী শহুরে দরিদ্রদের জন্য কি তার একটুও দিতে পেরেছি?

আধুনিক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় সরকারের ‘ক্ষমতায়’ কে থাকবেন বা না থাকবেন তা অনেকাংশে নির্ধারণ করেন শহুরে শিক্ষিতরা। তাই যে সরকারই আসুক না কেন, শহরের শিক্ষিত মানুষের আরাম আয়েস ও স্বাধীনতার বিষয়টিই মুখ্য হয়ে থাকে। আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বে গ্রামে বাস করা বেশীর ভাগ জনগোষ্ঠীর জীবনের গুণগত মান, স্বাধীনতা পিছনে চলে যায়।

খ-২। বিশ্বায়ণের কিছু ভ্রান্ত যুক্তি

বিশ্বায়ণের একটি যুক্তি দেয়া হয় যে যার যে বিষয়ে সুযোগ ও দক্ষতা বেশী সে কেবল সে কাজটি করুক, তাহলে গোটা বিশ্বের মানুষ কম পয়সায় সব সুবিধাগুলো পাবে। এ যুক্তিটি গ্রহণীয় হত যদি সব দক্ষতার সমান অর্থনৈতিক মূল্যয়ণ হত। আমাদের দেশের একজন কৃষক বা শ্রমিক দিনে ৮ ঘন্টা পরিশ্রম করে যে অর্থ আয় করছে, একই দেশের কেউ কেউ তা থেকে কয়েক হাজার গুণ আয় করছে, আর পাশ্চাত্যের কোন কোন দেশে তা আরও বেশী। তাই যখন ইদানীংকার নতুন ব্যবস্থাপনায় ‘আউটসোর্সিং’ এর গুণগানের আড়ালে রয়ে গেছে দারিদ্রকে জিইয়ে রাখার প্রবণতা। কারণ মানুষকে কম মূল্য দিয়ে কাজ করিয়ে নেয়াতেই আউটসোর্সিং এর সফলতা, তাই স্বাভাবিকভাবে এ ব্যবস্থা কখনোই চাইবে না যে যারা কাজ করবে তাদের আয় বাড়ুক। এটিকে সফল করতে যার সাহায্য দরকার, তা হল দেশের সরকারের। তাই সরকারে যারা আছে তাদেরকে বিভিন্নভাবে প্রভাবান্বিত করে, পৃথিবীময় প্রচারের মাধ্যমে প্রতিটি দরিদ্র দেশের সরকার ব্যবস্থাকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করে রাখা হয়েছে যেন তারা যেচে নিজেদের মানুষদেরকে প্রকৃত বিবেচেনায় আধুনিক বিশ্বের ‘দাস’ বানিয়ে ফেলেছে।

খ-৩। দরিদ্রের চাহিদা ও পাশ্চাত্যের অর্থনীতিশাস্ত্রের তত্ব

আজকাল আমাদের নীতিমালা ভীষণভাবে অর্থনীতিশাস্ত্রের উপর নির্ভরশীল হয়ে গেছে। একটি বড় সমস্যা হচ্ছে যে অর্থনীতি দরিদ্রের চাহিদাকে চাহিদা হিসেবে গণ্য করে না। তাই তৃতীয় বিশ্বের হতদরিদ্রদের জন্য অর্থনীতি অনুদান বা ভিক্ষার বাইরে কিছু চিন্তা করতে পারে না। কিন্তু এসব দরিদ্রেরাও রক্ত মাংসের মানুষ, তাদেরকে খেতে হয়, পড়তে হয়। তাদেরও আত্ম সম্মান আছে, উদ্ভাবনী শক্তি আছে। তারা কিন্তু সোশাল সেফটি নেটের অনুদান, বা সরাসরি বলতে গেলে, ‘ভিক্ষার’ অর্থ নিতে লালায়িত নয়। তারা কাজের পরিবেশ চায়, নিজেই নিজের জীবনকে গড়তে চায়। যদি সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়া যায় তবে এ বক্তব্যের সমর্থন পাওয়া যাবে। একজন উপার্জনক্ষম ব্যক্তি যথেষ্ট আয় করতে পারলে সে তার বৃদ্ধ পিতা মাতা বা প্রতিবন্ধী ভাই-বোনকে দেখবে না? হাজার হাজার বছর ধরে কিন্তু তাই চলে আসছে। কিন্তু আধুনিক অর্থনীতি, যা পাশ্চাত্যের শিল্প বিপ্লব পরবর্তী সময়ে প্রণীত হয়েছে তা মানুষের এসব অন্তর্নিহিত গুণাবলীকে খুব একটা আমলে নেয় না, লোভ লালসায় ভরা মানুষের ঋণাত্মক দিকগুলোই অর্থনীতি সামনে রেখে চিন্তা করে। তাই এ চিন্তার ভিত্তিতে গঠিত নীতিমালা মানুষকে আরও লোভী ও অমানুষ করে তোলে, যার উদাহরণ চারদিকে দেখতে পাচ্ছি।

আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় তৃতীয় বিশ্বে আমরা যারা শিক্ষিত, যারা নীতিমালা প্রণয়ণ করি, সাধারণ মানুষ থেকে আমাদের অবস্থান অনেক দূরে। আমরা নিজেদেরকে অনেক বেশী বিজ্ঞ ও অভিজ্ঞ ভাবি, এখানেই বড় সমস্যা নিহিত। নীতিমালা প্রণয়ণকারী হিসেবে আমরা ভাবি যে দেশের সমস্যা সমাধানের জন্য সব মেধা ও জ্ঞান কেবলমাত্র আমাদেরই রয়েছে, আমরা পরিকল্পনা করব, দেশের মানুষ কেবল সে পরিকল্পনা অনুযায়ী চললেই দেশের সমৃদ্ধি আসবে। যুগের পর যুগ আমরা এভাবেই দেশের অর্থনীতির পরিকল্পনা করে আসছি, কিন্তু দারিদ্র এখনও কাটিয়ে উঠতে পারি নি। এসব পরিকল্পনায় ভাবা হয় যে দেশের জনসাধারণের কেবল শ্রম দেয়ার জন্য দুটি করে হাত রয়েছে, তাই দেশের সস্তা শ্রমকে সারা বিশ্বে বিপণন করা ছাড়া দারিদ্র দূরীকরণের কোন রাস্তা নেই। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা প্রতিটি ব্যক্তিকে দুটি হাতের সাথে একটি মস্তিষ্কও দিয়েছেন, এবং মেধা ব্যবহার করে যে কোন কঠিন অবস্থা থেকে নিজেকে বের করে নিয়ে আসার মত উদ্ভাবনী ক্ষমতাও তাকে দিয়েছেন, অবশ্য যদি না অন্য কেউ তার উপর ক্ষমতা প্রয়োগ করে তাকে দাবিয়ে রাখে। অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে হয়, ঔপনিবেশিক আমলে আমাদের দেশের শিল্পকে ধ্বংস করে তাদের থেকে পণ্য আমদানীকে উৎসাহিত করবার জন্য যে সব কর নীতিমালা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা প্রণয়ন করা হয়েছিল, দেশ স্বাধীন হবার পর সে নীতিমালাকেই যোগ-বিয়োগ করে আমরা চলছি। তাই সাধারণ মানুষকে দাবিয়ে রাখার যে উপাদানগুলো নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত ছিল সে গুলোকে আমরা দূর করে উঠতে পারিনি। দারিদ্রের মূল কারণও এখানেই। তাছাড়া এ কারণেই বিশ্বের ধনী ও দরিদ্রের বৈষম্যের সাথে আমাদের দেশের ভিতরের বৈষম্যও বাড়ছে।

খ-৪) ভারতের উপলব্ধি ও কর্ম পরিকল্পনা

স্বাধীনতার পর থেকেই দেশীয় শিল্প প্রসারের জন্য প্রথমে বৃহৎ শিল্পের দিকেই নজর দিয়েছিল ভারত। সত্তরের দশকে বুঝতে পারে যে বৃহৎ শিল্প দেশের কাঙ্খিত পরিবর্তন আনতে পারছে না। তখন তারা নিজস্ব প্রযুক্তি ভিত্তিক ক্ষুদ্র শিল্পের গুরুত্ব উপলব্ধি করে তার প্রসারের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা শুরু করে। প্রথম থেকেই আমদানী করা পণ্যের প্রতিযোগিতায় নিজস্ব সব ধরণের শিল্পের সুরক্ষার জন্য আমদানী কর নীতিমালা যখন তারা দেখলেন যে দেশেরই বড় শিল্প উদ্যোক্তাগণ ক্ষুদ্র শিল্পের তৈরী পণ্যের প্রতিযোগিতায় এসে যাচ্ছে, ক্ষুদ্র শিল্পকে রক্ষার জন্য বড় শিল্প কোন্ কোন্ পণ্য তৈরী করতে পারবে না তার জন্য ঋণাত্মক তালিকা প্রণয়ণ করে তারা। বর্তমানে বছরে এক কোটি টাকা বিক্রয়কারী ক্ষুদ্র শিল্পকে কোন কর দিতে হয় না, কোন নিবন্ধনও করতে হয় না। এ স্বাধীনতা দেয়ার ফলে সেখানে অনেক ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে উঠেছে, আর আজ সারা পৃথিবী দেখছে ভারত কিভাবে গোটা বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

গ) এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা ও তা দূর করার উপায়

বাংলাদেশ এক অমিত সম্ভাবনার দেশ। এদেশের মানুষের মেধা ও দক্ষতা পৃথিবীর যে কোন দেশের চাইতে কোন অংশে কম নয়। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক্স এবং ইলেকট্রিকাল খাতে এ দেশের মানুষের মেধায় বিশেষ স্ফুরণ ঘটতে পারেী তাই এ প্রযুক্তি ও প্রকৌশল খাতে ক্ষুদ্র শিল্প যেন এগিয়ে যেতে পারে তার জন্য কিছু কর্ম পরিকল্পনা এখানে প্রস্তাব আকারে তুলে ধরা হল।

গ-১) স্বল্পমেয়াদী কর্ম পরিকল্পনাঃ

|ক্রম |করণীয় |প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ |দায়িত্বশীল |তদারকী |মন্তব্য |
| | | |দপ্তর/গোষ্ঠী/ব্যক্তি |দপ্তর/গোষ্ঠী/ব্যক্তি | |
|১ |শিল্পের সংজ্ঞায়ণ |২০১০ শিল্পনীতির কুটির ও মাইক্রো প্রস্তুতকারী (সেবামূলক নয়) শিল্পকে |শিল্প মন্ত্রণালয় |এসএমই ফাউন্ডেশন |‘শিল্প’ কথাটি উচ্চারণ করা হলেই আমরা নির্দিষ্ট কিছু ধারণার মধ্যে আটকিয়ে |
| | |‘শিল্পকুঁড়ি’ নামকরণ ও সর্বস্তরে গ্রহনীয় করার জন্য পদক্ষেপ । | | |যাই যা এসব শিল্পকুঁড়ির জন্য যে প্রযোজ্য নয়। আমাদের মানসিকতার মধ্যে একটি |
| | | | | |ধারণা তৈরী করা প্রয়োজন যে এদেরকে লালন করতে হবে দেশের ভবিষ্যতের জন্য,|
| | | | | |যে ভাবে আমরা একটি চারাগাছকে লালন করি ভবিষ্যতে মহীরুহে পরিণত করার |
| | | | | |জন্য। তাহলে ভবিষ্যতে এরাই বহুগুণে দেশকে সমৃদ্ধ করবে। |
|২ |ট্রেড লাইসেন্স মুক্ত/ |ক) শিল্পকুঁড়ির ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্সের এবং যে কোনো ধরণের নিবন্ধনের |অর্থ মন্ত্রণালয় |এসএমই ফাউন্ডেশন |প্রযুক্তি উদ্ভাবনে অনেক চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে একজন উদ্ভাবক-উদ্যোক্তা যখন |
| |সহজীকরণ |বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে নিতে হবে। কেবলমাত্র নিষিদ্ধ পণ্যের একটি ঋণাত্মক |স্থানীয় সরকার | |তার তৈরী পণ্য প্রথমে বিক্রয় করতে চান, কেবলমাত্র আইন অনুসরণ করার জন্য ঐ |
| | |তালিকা প্রচার করা হবে যা এসব শিল্প প্রতিষ্ঠান তৈরী করতে পারবে না। |মন্ত্রণালয় | |সময়ে তার পক্ষে এ ধরণের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে ঘুরে তা যোগাড় করা কঠিন, |
| | |খ) ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পের জন্য ট্রেড লাইসেন্স প্রযোজ্য হবে, কিন্তু | | |বিশেষ করে বাংলাদেশের দুর্নীতিপূর্ণ পরিবেশে। তা ছাড়া প্রথমে তার যথেষ্ট |
| | |অন্যান্য ক্লিয়ারেন্স বা অনুমতির প্রয়োজনীয়তা উঠিয়ে নিতে হবে। পরিবেশ | | |টাকাও হাতে থাকে না, পণ্য উদ্ভাবনে ও প্রোটোটাইপ তৈরীতেই সব খরচ হয়ে |
| | |এবং অন্যন্য কাঙ্খিত বিষয়গুলো শর্ত হিসেবে ট্রেড লাইসেন্সের বইয়ে লিপিবদ্ধ| | |যায়। সে নিশ্চিতও না যে তার পণ্যটি বাজারে চলবে কিনা। এ অবস্থায় তাকে |
| | |থাকবে। | | |সব নিয়মকানুনের বেড়াজালে বাধ্য করার ফলে তার উদ্যাোগটি শুরুতেই বন্ধ হয়ে |
| | |গ) যদি কেউ উল্লিখিত শর্তসমুহ ভঙ্গ করে তখন তাকে বিচারের আওতায় আনা | | |যায়। |
| | |যাবে। | | | |
|৩ |ভ্যাট মুক্ত/ সহজীকরণ |ক) “শিল্পকুঁড়ি”কে সম্পূর্ণ ভ্যাটমুক্ত করা, এবং তাদের জন্য নিবন্ধনের |অর্থ মন্ত্রণালয়, এনবিআর|এসএমই ফাউন্ডেশন |ক) শিল্পকুঁড়িকে লালন করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে দেশের ভবিষ্যতের স্বার্থে। |
| | |প্রয়োজনীয়তা সম্পূর্ণ তুলে দেয়া। | | |তাছাড়া এ পদক্ষেপে সরকারের আয় দৃশ্যত: যে পরিমাণ কমবে তার থেকে অনেকগগুণ|
| | |খ-১) ২০১০ শিল্পনীতির ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পকে (বর্তমানের ৬০ লক্ষ টাকা | | |বেশী আয় হবে দেশে উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে। |
| | |বিক্রয় পর্যন্ত নয়) মূল্য সংকোচন ভিত্তিতে টার্ণ ওভার এর আওতায় ভ্যাট | | |খ) ভ্যাট ব্যবস্থা অনুসরণ করা অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পের জন্যই জটিল ও |
| | |প্রদান এর অপশন দেয়া (যেন উদ্যোক্তা সাধারণ ভ্যাট বা টার্ণ ওভার – এ | | |কঠিন। এর ফলে সরকারী কর্মচারীদের দুর্নীতির সুযোগও বেড়ে যায়, পরিণতিতে |
| | |দুটো পদ্ধতির যে কোন একটি বেছে নিতে পারে) | | |গোটা শিল্প খাতটিই ধ্বংসের মুখে পড়ে। দেশের স্বার্থে এ সব শিল্প প্রতিষ্ঠান |
| | |খ-২) প্রতি মাসে যে কোন আধা-সরকারী ব্যাঙ্কের মাধ্যমে উল্লিখিত ভ্যাট | | |বাঁচিয়ে রাখা প্রয়োজন। তাই উল্লিখিত অপশনের সুযোগ থাকা উচিৎ। ট্রেডিং, |
| | |প্রদানের সুবিধা | | |খুচরা বিক্রয় – সবখানে এ ধরণের অপশনের সুযোগ দেয়া আছে, শিল্পে কেন নয়? |
| | |গ) তবে ভাল হয় কোন শিল্প প্রস্তুতকারীর কাছ থেকে ভ্যাট না নিয়ে | | |গ) তত্বগতভাবে ভ্যাট মুলত: ক্রেতার উপর বর্তায় (কনজিউমার ট্যাক্স), |
| | |কেবলমাত্র খুচরা বিক্রয়, সরবরাহ ও রপ্তানী পর্যায়ে ভ্যাট নেয়ার ব্যবস্থা | | |বিক্রেতার উপর নয়। প্রস্তুতকারীর অসংখ্য চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তাকে সেগুলো |
| | |করা, কারণ এটি কনজিউমার ট্যাক্স। | | |মোকাবিলা করতে সুযোগ দেয়া দরকার দেশের স্বার্থে, তাই তাকে ভ্যাট আদায়ের |
| | | | | |দায়িত্ব থেকে মুক্ত করা দরকার। তাছাড়া, তত্বগতভাবে একই পরিমাণ ভ্যাট |
| | | | | |এভাবেও আদায় হবার কথা |
|৪ |মালামাল পরিবহনে পথে |ক্ষুদ্র শিল্পের মালামাল সরবরাহ করার সময় কোন আইন ভঙ্গের বা অপকর্মের |শিল্প, অর্থ, স্বরাষ্ট্র |এসএমই ফাউন্ডেশন |ক্ষুদ্র শিল্প প্রস্তুতকারীদেরকে মালামাল সরবরাহ করার সময়ে পুলিশ কনস্টেবল, |
| |পথে সরকারী |সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য না থাকলে পথে পথে কাষ্টমস, পুলিশ ও অন্যান্য |মন্ত্রণালয় | |ট্রাফিক পুলিশ, বা অন্য যে কোন সরকারী দপ্তরের কর্মচারী পথে পথে হয়রানী |
| |কর্মচারীদের হয়রানী দূর|সরকারী কর্মচারী থামাতে পারবেনা, এই মর্মে আইন করে তার প্রচার। যে | | |করে দুর্নীতির মাধ্যমে নিজের স্বার্থসিদ্ধির ব্যবস্থা করে। এ থেকে |
| |করা |কোন দিক থেকে এ আইনের অপপ্রয়োগ হলে সংশ্লিষ্ট সমিতির এবং সরকারী | | |উদ্যোক্তাদেরকে মুক্ত করতে না পারলে দেশে ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশ হবে না। |
| | |দপ্তরের মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা করতে হবে। | | |এজন্য সব প্রস্তুতকারক শিল্পকে ক্রেতাদের প্রদেয় (কনজিউমার ট্যাক্স) ভ্যাট |
| | | | | |আদায়ের দায়িত্ব থেকে মুক্ত করলে এ সমস্যটি অনেক কমে যাবে। |
|৫ |শিল্প-প্রতিষ্ঠানের |১। কোন শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ থাকলে |শিল্প, অর্থ, পরিবেশ, |এসএমই ফাউন্ডেশন, |যে কোন কাস্টমস কর্মচারী একজন শিল্পোদ্যোক্তার দপ্তরে গিয়ে একার অভিযোগে |
| |দপ্তরে বিভিন্ন সরকারী |সংশ্লিষ্ট সরকারী কর্তৃপক্ষের কর্মচারীরা এককভাবে বা দলগতভাবে উক্ত |আইন মন্ত্রণালয়, |সংশ্লিষ্ট সমিতি |প্রতিষ্ঠানের সব কাগজপত্র সিজ করে তার কারখানা বন্ধ করে দিতে পারে। আর |
| |দপ্তরের দুর্নীতিবাজ |প্রতিষ্ঠানে যেতে পারবেন না। এরকমের কোনো সমস্যা হলে উক্ত শিল্প |সংশ্লিষ্ট সমিতি | |সেই কর্মচারী যদি দুর্নীতিবাজ হয় তবে অবস্থার ভয়াবহতা আঁচ করা যায়। যদি |
| |কর্মচারীদের হয়রানী |সংশ্লিষ্ট সমিতির সদস্যদেরকে নিয়ে শিল্প প্রতিষ্ঠানে যাবেন (উক্ত | | |কারও বিরুদ্ধে নির্দিস্ট কোন অভিযোগ থাকে তবে সংশ্লিষ্ট সমিতির মাধ্যমে |
| |বন্ধ করা |প্রতিষ্ঠান কোন সমিতির সদস্য না হলেও), এবং তাদের উপস্থিতিতেই আলোচনা | | |গেলে শিল্পদ্যোক্তা আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য কিছুটা সাহস পায়, ও সে ধরণের |
| | |এবং তথ্য সংগ্রহ করার কাজ করবেন। পরবর্তী যে কোন পদক্ষেপ নিতে হলে | | |পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনেক সময় প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য দুর্নীতিবাজ |
| | |সংশ্লিষ্ট সমিতিকে নিয়ে করতে হবে। | | |কাস্টমস কর্মচারীদের অন্যায় দাবী মেনে নিতে গিয়ে উদ্যাক্তাকে দুর্নীতি করতে|
| | |২। হঠাৎ পদক্ষেপ না নিলে কোন অপকর্ম প্রমাণ করা কঠিন হতে পারে এমন | | |হয়। পরে সেই দুর্নীতির সূত্র ধরে শিল্প উদ্যোক্তাকে শাস্তি দেয়া হয়। এভাবে |
| | |পরিস্থিতি হলে সংশ্লিষ্ট সরকারী কর্তৃপক্ষের কর্মচারীরা ফ্যাক্টরী বা | | |অনেক ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গেছে, তাতে দেশেরই ক্ষতি হয়েছে। |
| | |প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট সমিতির | | | |
| | |কমিটির সদস্যাদেরকে ডাকবেন এবং পরবর্তীতে যে কোন পদক্ষেপ নিতে হয় তা | | | |
| | |সমিতিকে সাথে নিয়ে করতে হবে। | | | |
|৬ |আমদানী পর্যায়ে কাস্টমস|এখনও কোন কোন ক্ষেত্রে তৈরী পণ্য ও কাঁচামালের আমদানী শুল্কে (টোটাল |অর্থ মন্ত্রণালয়, |এসএমই ফাউন্ডেশন, |সাধারণভাবে প্রযুক্তি নির্ভর পণ্য প্রস্তুতে বাংলাদেশ আমদানী করা কাঁচামাল বা|
| |শুল্ক, ভ্যাট, ও অন্যান্য |ট্যাক্স ইনসিডেন্স) দেশীয় প্রস্ততুকারীর বিরুদ্ধে যায় এমন নীতিমালা রয়েছে,|(এনবিআর), ট্যারিফ |সংশ্লিষ্ট |সেমি ফিনিশ্ড পণ্যের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু কোন কোন ক্ষেত্রে কাঁচামাল বা |
| |শুল্ক যৌক্তিকরণ, |যার শুদ্ধি দরকার। বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রে দুটি পণ্যের জন্য জরুরী ভিত্তিতে |কমিশন, সংশ্লিষ্ট |অ্যাসোসিয়েশন, |সেমি ফিনিশ্ড পণ্যও উৎপাদনের চেষ্টা হচ্ছে। এ কারণে প্রতিটি আইটেমকে |
| |বিশেষ করে |ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। |অ্যাসোসিয়েশন, বিষয় | |আলাদা করে বিচার করে তার শুল্কায়ণ করতে হবে যেন তা সামগ্রিকভাবে দেশের |
| | |ক) গত ২০১১ সাল থেকে ইলেকট্রিকাল সুইচ ও অ্যাক্সেসরীজ তৈরীর কাঁচামাল |বিশেষজ্ঞ | |স্বার্থের জন্য হয়। |
| |ক) ‘ইউরিয়া রেজিন’ এর|‘ইউরিয়া রেজিন’ এর উপর সর্বোচ্চ হারে (২৫%) আমদানী শুল্ক আরোপ করা | | |ক) মেলামাইন সামগ্রীর কাঁচামাল ‘ইউরিয়া রেজিন’ দেশে মাত্র কয়েকটি |
| |ক্ষেত্রে |আছে, আবার ফিনিশড সুইচ বা অ্যাক্সেসরীজ এর উপরও ২৫% আমদানী শুল্ক | | |প্রতিষ্ঠানে তৈরী হয়। এটি ক্রিম রঙের, এবং বৈদ্যুতিক অ্যাক্সেসরীজেও ব্যবহৃত |
| |খ) সিকেডি’ আকারে |রয়েছে। এটি দেশের সাধারণ কর নীতিমালার বিরুদ্ধে হলেও তা সংশোধন করা | | |হতে পারে। তবে উন্নত মানের বৈদ্যুতিক অ্যাক্সেসরীজে সাদা রেজিন প্রয়োজন যা|
| |টেলিভিশন এর যন্ত্রাংশ |হচ্ছে না। জরুরী ভিত্তিতে এর শুদ্ধি দরকার। এর জন্য ‘ইউরিয়া রেজিন’ | | |দেশে তৈরী হয় না। দেশে এক হাজারের মত বৈদ্যুতিক অ্যাক্সেসরীজ প্রস্তুতকারক |
| |এর ক্ষেত্রে |আমদানীর উপরে সর্বনিম্ন হারে, অর্থাৎ ৫% শুল্ক আরোপ করা দরকার। দেশের | | |ক্ষুদ্র শিল্প রয়েছে যারা দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রপ্তানী করার |
| | |কয়েকটি ‘ইউরিয়া রেজিন’ তৈরীর শিল্প প্রতিষ্ঠান যারা মোট চাহিদার ১ | | |সম্ভাবনা তৈরী করেছিল। কিন্তু সরকারের এই ভ্রান্ত শুল্কায়ণের ফলে গত এক |
| | |শতাংশের মত তৈরী করে তাদেরকে টিকে থাকার জন্য সম্পূর্ণ ভ্যাট মওকুফ, | | |বছরেই এদের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। দেশে প্রস্তুতকৃত সুইচ দেশে এবং বিদেশে |
| | |এবং প্রয়োজনে সাবসিডী দেয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বিকল্প ব্যবস্থায়, | | |প্রতিযোগিতায় থাকার জন্য ইউরিয়া রেজিন এর উপর সর্বনিম্ন হারে আমদানী শুল্ক|
| | |সাদা ইউরিয়া রেজিন, যা দেশে তৈরী হয় না, তার জন্য আলাদা এইচএস কোড | | |থাকা দরকার। |
| | |আরোপ করে সেটির উপর ৫% আমদানী শুল্ক হার আরোপ করা যায়। | | |খ) ফিনিশ্‌ড টেলিভিশন ও তার যন্ত্রাংশ আমদানীতে যে শুল্ক আরোপ করা আছে |
| | |খ) বর্তমানে ফিনিশ্‌ড টেলিভিশন আমদানীতে ২৫% শুল্ক রয়েছে। পক্ষান্তরে | | |(ফিনিশ্‌ড: ২৫%, যন্ত্রাংশ, সাধারণ আমদানী: ৪৫%) এ ধরণের আমদানী কর |
| | |নিবন্ধিত টেলিভিশন সংযোজনকারী শিল্প এর যন্ত্রাংশ সিকেডি অবস্থায় | | |নীতিমালা একটি স্বাধীন দেশে থাকতে পারে না, এ নীতিমালা পরিবর্তন করার |
| | |সরাসরি আমদানী করতেও ২৫% শুল্ক দিতে হয়। আর দেশের ক্ষুদ্র সংযোজনকারী | | |জন্য জরুরী পদক্ষেপ নিতে হবে। আর যারা নিজেরা আমদানী করতে পারে না এসব |
| | |শিল্পগুলো নিজেরা যন্ত্রাংশ আমদানী করতে পারে না বিধায় সাধারণ | | |ক্ষুদ্র শিল্পকে নিরুৎসাহিত করার জন্য যে উল্টো আমদানী শুল্ক ব্যবস্থা চালু আছে |
| | |আমদানীকারকদের উপর নির্ভর করতে হয়। এক্ষেত্রে সাপ্লিমেন্টারী শুল্কসহ মোট| | |তা সম্পূর্ণ দেশের স্বার্থবিরোধী। |
| | |৪৫% শুল্ক দিতে হয়। সিকেডি টেলিভিশনের যন্ত্রাংশের উপর সর্বনিম্ন ৫% | | | |
| | |আমদানী শুল্ক আরোপ করা উচিৎ। | | | |
|৭ |দেশের স্বার্থ বিরোধী |যেখানে পরিষ্কার ভাবে দেশের স্বার্থ লঙ্ঘিত হবার মত শুল্কায়ন নীতিমালা |সংসদীয় স্ট্যান্ডিং |এসএমই ফাউন্ডেশন, |উল্লিখিত দুটি উদাহরণ থেকে, বিশেষ করে টেলিভিশনের ক্ষেত্রে পরিষ্কারভাবে|
| |শুল্কায়ন করার পিছনে |দেখা যাবে, সে ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক |কমিটি, অর্থ মন্ত্রণালয়,|সংশ্লিষ্ট |দেখা যায় যে দেশের স্বার্থবিরোধী নীতিমালা তৈরী করা হয়েছে। এ সব |
| |দায়ী কর্মকর্তাদের |ব্যবস্থা নেয়া দরকার। |(এনবিআর), ট্যারিফ |অ্যাসোসিয়েশন, |ক্ষেত্রে দায়ী ব্যক্তিদেরকে আইন ও বিচারের সম্মুখীন করার ব্যবস্থা করা |
| |শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া| |কমিশন, সংশ্লিষ্ট | |দরকার। |
| | | |অ্যাসোসিয়েশন, বিষয় | | |
| | | |বিশেষজ্ঞ | | |
|৮ |বড় শিল্পকে সুবিধা দেয়া|ইদানীং রেফ্রিজারেটর ও মোটর সাইকেল শিল্পে ভ্যাট মওকুফ ও যন্ত্রাংশ |অর্থ মন্ত্রণালয়, |এসএমই ফাউন্ডেশন, |ক্ষুদ্র শিল্প দেশের জন্য অনেক বেশী জরুরী। বড় শিল্পের জন্য যে ধরণের কর |
| |হচ্ছে, কিন্তু ক্ষুদ্র |আমদানীতে শুল্ক কমানো হয়েছে। সব ক্ষুদ্র শিল্পকে এ ধরণের সুবিধা দেয়া |(এনবিআর), ট্যারিফ |সংশ্লিষ্ট |মওকুফের সুবিধা দেয়া হচ্ছে, ক্ষুদ্র শিল্পের ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশী সুবিধা |
| |শিল্পকে নয়, এর শুদ্ধি |উচিত। |কমিশন, সংশ্লিষ্ট |অ্যাসোসিয়েশন |দেয়া দরকার। |
| |দরকার | |অ্যাসোসিয়েশন, বিষয় | | |
| | | |বিশেষজ্ঞ | | |
|৭ |পণ্য আমদানীতে আন্ডার |এ বিষয়ে কারও অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতকারী ও আমদানীকারক সমিতি |সংশিল্ষ্ট প্রস্তুতকারী ও |এসএমই ফাউন্ডেশন, |কাস্টমস কর্মচারীদের যোগসাজশে এ ধরণের দুর্নীতি হয়ে থাকে, তাই কেবলমাত্র |
| |ইনভয়েসিং, ও কম শুল্কের|ও বিষয় বিশেষজ্ঞদেরকে নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের ব্যবস্থা করে প্রয়োজনীয় বিচার |আমদানীকারক সমিতি, |সংশিল্ষ্ট প্রস্তুতকারী |কাস্টমস কর্তৃপক্ষের আভ্যন্তরীন তদন্ত করা ঠিক হবে না। |
| |পণ্যের নামে মিথ্যা |করতে হবে। |এবং বিষয় বিশেষজ্ঞ |সমিতি | |
| |ঘোষণা দেয়া বন্ধ করা | | | | |
|৮ |আত্মপক্ষ সমর্থনের |মোবাইল কোর্ট একটি অনাকাঙ্খিত ঔপনিবেশিক ব্যবস্থা। একটি স্বাধীন দেশে এ|স্থানীয় গণ্যমান্য |এসএমই ফাউন্ডেশন, |মোবাইল কোর্ট একটি ঔপনিবেশিক পদ্ধতি, যেখানে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোন সুযোগ |
| |সুযোগহীন মোবাইল কোর্ট |ধরণের নিয়ম থাকা ঠিক নয়। স্থানীয় সিভিল সোসাইটি সমন্বয়ে বিশেষ কমিটি|ব্যক্তিবর্গ (শিক্ষক, |সংশিল্ষ্ট প্রস্তুতকারী |থাকে না, তাই এটি একটি কালা কানুন বলা চলে। এর অপব্যবহার হতে পারে এবং|
| |বিচার ব্যবস্থা বন্ধ করে|করে তার মাধ্যমে শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে অন্যায়কারীদেরকে প্রথমতঃ উপদেশ|আইনজ্ঞ), নির্বাচিত |সমিতি |হয়েছেও, ভবিষ্যতেও হবে। শিল্প প্রস্তুতকারীদেকে, বিশেষ করে ক্ষুদ্রদেরকে এ |
| |অন্যায়কারীদের বিচারের|দেয়ার মাধ্যমে নিবৃত্ত করা, তাতে কাজ না হলে দ্বিতীয়তঃ সাবধান করে |স্থানীয় প্রতিনিধি, | |ব্যবস্থার মাধ্যমে অনেক সময় ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে, হয়ত ভুল অভিযোগে। কিন্তু|
| |জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা|দেয়া, ও তাতেও কাজ না হলে তৃতীয়তঃ কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা দরকার। |সরকারী প্রতিনিধি, | |পরে ভুল প্রমাণিত হলেও সেই ক্ষুদ্র উদ্যাগটি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারে না। এতে |
| | |কিন্তু আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ অবশ্যই রাখতে হবে। হঠাৎ কোন অপকর্ম রোধ |সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতকারক | |দেশেরই ক্ষতি হচ্ছে। |
| | |করতে হলে উপরের ৫(২) ক্রমিকে প্রস্তাবিত পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। |সমিতি | | |
|৯ |আয়করের বিশেষ রেয়াত |ক) শিল্পকুঁড়ির জন্য আয়কর সম্পূর্ণ রেয়াত করা। এর জন্য কোন রকমের নিবন্ধনের|অর্থ মন্ত্রণালয় |এসএমই ফাউন্ডেশন, |দৃশ্যত: যেটুকু আয় কমবে, ক্ষুদ্র শিল্পে ও শিল্পকুঁড়িতে বিশাল প্রবৃদ্ধির কারণে |
| |ব্যবস্থা, বিশেষ করে |প্রয়োজন থাকা উচিৎ নয়। |(এনবিআর) |সংশিল্ষ্ট প্রস্তুতকারী |রাজস্ব আয় প্রকৃতপক্ষে বাড়বে আর দেশে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। ঢাকা ও|
| |শিল্পকুঁড়ির ক্ষেত্রে |খ) ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামে | |সমিতি |চট্টগ্রামের বাইরে শিল্প স্থাপনে উদ্বুদ্ধ করার জন্য যথেষ্ট সুবিধা থাকা |
| | |প্রথম ৫ বছর সম্পূর্ণ রেয়াত, পরবর্তী ৫ বছর ৫০% রেয়াত। ঢাকা ও | | |দরকার। |
| | |চট্টগ্রামের বাইরে প্রথম ১০ বছর সম্পূর্ণ রেয়াত, পরবর্তী ১০ বছর ৫০% | | | |
| | |রেয়াত। | | | |
|১০ |বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণমূলক |শ্রম অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, প্রোডাক্টিভিটি আইন ও পরিদপ্তর – |শিল্প মন্ত্রণালয় |এসএমই ফাউন্ডেশন |শ্রম আইন পরিদপ্তর, পরিবেশ দপ্তর, প্রোডাক্টিভিটি আইন ও পরিদপ্তর – এরা |
| |নীতিমালা পাল্টিয়ে |এদেরকে নিয়ন্ত্রণমূলক ভুমিকা থেকে সরিয়ে উদ্বুদ্ধকরণ ভুমিকায় নিয়ে আসার | | |সবাই বাস্তবে নিয়ন্ত্রণমূলক ভুমিকা পালন করছে। ফলে উদ্দেশ্য ভাল থাকলেও |
| |উদ্বুদ্ধকরণ নীতিমালা |জন্য এসব পরিদপ্তরের কর্ম-ভুমিকার নীতিমালায় পরিবর্তন আনতে হবে। গত | | |বাস্তবে তার উল্টো ফল হচ্ছে। কাঙ্খিত অবস্থা বাস্তবায়ন সম্ভব উদ্বুদ্ধকরণের |
| |তৈরী করা |বছরগুলোতে ইতিমধ্যে এ লক্ষ্যে কিছু পরিবর্তন হয়েছে, তবে বাস্তবে যেন তা | | |মাধ্যমে, তথ্য প্রদান ও সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে। এ জন্য এসব পরিদপ্তরের |
| | |প্রয়োগ হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কোন উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ | | |কর্ম-ভুমিকার নীতিমালায় আমূল পরিবর্তন আনা জরুরী। |
| | |থাকলে উপরের ৫ ও ৮ অনুচ্ছেদের মত সমিতিকে সংশ্লিষ্ট করে ব্যবস্থা নিতে | | | |
| | |হবে। | | | |
|১১ |সরকারী ও আধা সরকারী |গুণগত মান সঠিক হলে ও মূল্যে বিদেশী পণ্য থেকে ২০% পর্যন্ত বেশী হলেও |অর্থ মন্ত্রণালয়, শিল্প |এসএমই ফাউন্ডেশন |এ নিয়মটি এক সময়ে চালু ছিল, কিন্তু বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি/গোষ্ঠীর |
| |প্রতিষ্ঠানে দেশীয় পণ্য |দেশীয় পণ্য ক্রয়ে অগ্রগণ্যতার বিষয়ে সরকারী ও আধা সরকারী প্রতিষ্ঠানে |মন্ত্রণালয় | |প্রভাবে এটি ভুলে যাওয়া হয়েছে। দেশীয় পণ্যের প্রসারে এ নিয়মটি চালু করা |
| |ক্রয়ের অগ্রগণ্যতার নিয়ম|বাধ্যবাধকতার পুরোনো নিয়মটি পুনর্জীবিত/চালু করে প্রতি দপ্তরে চিঠি দেয়া | | |প্রয়োজন। তবে এ সুযোগে কেউ যেন অতিরিক্ত মুনাফা করতে না পারে তার জন্য |
| |পুনর্জীবিত করা, ও |ও প্রচার করা। গুণগত মানের বিষয়ে কোন বিরোধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট | | |এবং গুণগত মানের দোহাই দিয়ে যেন বিদেশী পণ্য কেনা না হয়, তার জন্য |
| |বিরোধের ক্ষেত্রে |বিশেষজ্ঞ সমন্বয়ে আরবিট্রেশন করার জন্য ব্যবস্থা নেয়া। এ ধরণের ক্ষেত্রে | | |অভিযোগ সেল ও আরবিট্রেশন এর ব্যবস্থা করা দরকার। |
| |আরবিটার নিয়োগ |অভিযোগ নেয়ার জন্য এসএমই ফাউন্ডেশনে একটি অভিযোগ সেল তৈরী করা। | | | |
|১২ |ক্ষুদ্র শিল্প প্রসারে ও |প্রযুক্তি, তথ্য ও উদ্বুদ্ধকরণের জন্য কৃষিকে নিয়ে যেভাবে রেডিও টেলিভিশনে |এসএমই ফাউন্ডেশন, বিষয়|এসএমই ফাউন্ডেশন |এ সম্প্রচারের মাধ্যমে ক্ষুদ্র শিল্পে জনগণকে উদ্ধুদ্ধ করা যাবে, তথ্য দেয়া, |
| |উদ্বুদ্ধকরণে রেডিও |অনুষ্ঠান হচ্ছে, সে ভাবে ক্ষুদ্র শিল্পকে নিয়েও অনুষ্ঠান সম্প্রচার করতে হবে।|বিশেষজ্ঞ, তথ্য ও | |উদ্যোক্তাদেরকে আইন ও তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা, পরিবেশ সম্পর্কে |
| |টেলিভিশনে অনুষ্ঠান | |যোগাযোগ মন্ত্রণালয় | |সচেতন করা, ইত্যাদি নানা বিষয় এ সম্প্রচারের মাধ্যমে করা যাবে। |
| |সম্প্রচার | | | |উদ্যোক্তাদের অসুবিধা, অভিযোগ এসবও এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনগণের ও সংশ্লিষ্ট|
| | | | | |কর্তৃপক্ষের সামনে তুলে ধরা যাবে। |

গ-২) মধ্য-মেয়াদী কর্ম পরিকল্পনাঃ

|ক্রমিক নং |করণীয় |প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ |দায়িত্বশীল |তদারকী |মন্তব্য |
| | | |দপ্তর/গোষ্ঠী/ব্যক্তি |দপ্তর/গোষ্ঠী/ব্যক্তি | |
|১ |নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও |বিদ্যুৎ শিল্প তথা সব শিল্পের জন্য নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস এর |শিল্প মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ, |এসএমই ফাউন্ডেশন |নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস নিশ্চিত করা না গেলে দেশের শিল্প প্রতিযোগিতায়|
| |গ্যাস এর ব্যবস্থা করা |ব্যবস্থা করা |জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ | |হেরে যাবে। |
| | | |মন্ত্রণালয় | | |
|২ |শিল্প পার্ক |ইলেকট্রিকাল ও ইলেকট্রনিক্স শিল্পের জন্য শিল্প পার্ক স্থাপন করে |শিল্প মন্ত্রণালয় |এসএমই ফাউন্ডেশন |বহুবছর ধরে এ প্রচেষ্টা চলে আসলেও এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয় নি। |
| | |নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য সুবিধার ব্যবস্থা করা। | | | |
|৩ |পণ্যের গুণগত মান |কম খরচে এ খাতের পণ্যসমুহের গুণগত মান নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা করে|এসএমই ফাউন্ডেশন, |এসএমই ফাউন্ডেশন, |বিএসটিআই এ যথেষ্ট প্রযুক্তিগত জনবল ও টেষ্টিং এর ব্যবস্থা নেই। তাছাড়া |
| |পরীক্ষার ব্যবস্থা |সার্টিফিকেট দেয়ার জন্য সরকারী-আধাসরকারী অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান |সংশ্লিষ্ট সমিতিসমুহ, ও |সংশ্লিষ্ট সমিতি ও বিষয় |সম্পূর্ণ সরকারী হওয়াতে সেখানে দুর্নীতিও ঢুকে পড়ে। বুয়েট অনেক বেশী খরচ |
| | |যেমন বিএসটিআই, বিসিএসআইআর, বিটাক, পরমানু শক্তি কমিশন, |প্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট |বিশেষজ্ঞ |দাবী করে যা ক্ষুদ্র শিল্পোদ্যাক্তাদের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। তাই অনেকগুলো|
| | |পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, এনজিও, পরীক্ষিত দায়িত্বসম্পন্ন বেসরকারী |প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়| |প্রতিষ্ঠান থাকলে অতিরিক্ত ফি নেয়া এবং দুর্নীতি কমবে ধারণা করা যায়। |
| | |সংস্থা, ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া। বিষয় ভিত্তিক দক্ষতার| | | |
| | |বিচারে তালিকা তৈরী করা যেতে পারে, তবে যে কোন বিষয়ে | | | |
| | |একাধিক দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান থাকতে হবে, নাহলে অতিরিক্ত ফি | | | |
| | |আদায় বা দুর্নীতির মত ঘটনা ঘটে। বিশেষায়িত প্রযুক্তির জন্য যদি | | | |
| | |উল্লিখিত কারও কাছে প্রয়োজনীয় টেষ্টিং যন্ত্রপাতি না থাকে, সে | | | |
| | |ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারকের কাছেই বিশেষায়িত টেষ্টিং যন্ত্রপাতি থাকতে| | | |
| | |হবে, এবং এক্ষেত্রে উল্লিখিত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের বিশেজ্ঞরা| | | |
| | |প্রস্তুতকারকের যন্ত্র দিয়েই টেষ্টিং করে সার্টিফিকেট দেবেন। | | | |
|৪ |প্রতি উপজেলা‌য় ক্ষুদ্র |শিল্পকুঁড়ি, ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পে প্রযুক্তি ও তথ্য সেবা দেয়ার |এসটাবলিশমেন্ট ডিভিশন, |এসএমই ফাউন্ডেশন |শিল্পকুঁড়ি, ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পে প্রযুক্তি ও তথ্য সেবা দেয়ার উদ্দেশ্যে |
| |শিল্প প্রযুক্তি ও তথ্য |উদ্দেশ্যে দেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগানোর জন্য এ |অর্থ মন্ত্রণালয়, শিল্প | |দেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগানোর জন্য এটি একটি নতুন পদক্ষেপ হবে। |
| |সম্প্রসারণ অধিদপ্তর |অধিদপ্তর স্থাপন করতে হবে। অনেকটা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মত|মন্ত্রণালয় (এসএমই | |অনেকটা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মত এর কার্যক্রম হবে। নিয়ন্ত্রণকারী |
| |স্থাপন করে বিজ্ঞান, |এর কার্যক্রম হবে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ, ইলেকট্রনিকস এবং |ফাউন্ডেশন, বিসিক) | |ভুমিকা থেকে সরিয়ে সহায়কের ভুমিকায় আমলাতন্ত্রকে নিয়ে আসতে এটি একটি |
| |প্রযুক্তি ও প্রকৌশল |যন্ত্রকৌশলে স্নাতক অফিসার নিয়োগ দিতে হবে। তাদেরকে দেশে | | |উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হবে। প্রযুক্তি ও প্রকৌশলে শিক্ষিত দেশের জনসম্পদকে বড় |
| |গ্রাজুয়েট অফিসার নিয়োগ|বিদেশে প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। | | |আকারে ব্যবহার করার জন্য দেশে কোন প্রতিষ্ঠান নেই। এ প্রস্তাবনাটি দেশে |
| |দেয়া | | | |বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দিতে পারে। |
|৫ |ঋণ প্রদানে অগগ্রণ্যতার |ক্ষুদ্র শিল্পের মধ্যেও অপেক্ষাকৃত ছোটদের ঋণ প্রদানে অগ্রাধিকার |বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক, শিল্প |এসএমই ফাউন্ডেশন |২০১০ এ সংজ্ঞায় ক্ষুদ্র শিল্পের বিনিয়োগের সীমাটি অনেক বড় (৫০ লক্ষ টাকা |
| |নীতিমালা তৈরী করা |দিতে হবে। এজন্য পয়েন্ট ব্যবস্থা করা যেতে পারে। |মন্ত্রণালয় (এসএমই | |থেকে ১০ কোটি টাকা)। ব্যাঙ্ক ও অন্যান্য অর্থ লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান |
| | | |ফাউন্ডেশন), বিসিক | |স্বাভাবিকভাবে এদের মধ্যে বড়দেরকে ঋণ দিতে বেশী আগ্রহী হবে। তাই উদ্যোগ |
| | | | | |এর বিনিয়োগ এর উপর নির্ভর করে একটি পয়েন্ট পদ্ধতি চালু করা দরকার যেন |
| | | | | |ছোটরা অগ্রাধিকার পায়। |
|৬ |ঋণ প্রদানে প্রযুক্তি পণ্য|যারা নিজেরাই প্রযুক্তি-পণ্য উদ্ভাবক, এবং নিজের খরচে বা |বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক, শিল্প |এসএমই ফাউন্ডেশন |যারা নিজেরাই প্রযুক্তি-পণ্য উদ্ভাবক, ক্ষুদ্র শিল্পে তারই সফল হবার সম্ভাবনা |
| |উদ্ভাবক-উদ্যাক্তার |পরিচিতজনের সাহায্য নিয়ে উদ্ভাবিত পণ্য বাজারজাত করণে কমপক্ষে |মন্ত্রণালয় (এসএমই | |বেশী। কেবলমাত্র কাগজে কলমে পরিকল্পনা না দেখিয়ে যে হাতে কলমে নিজের |
| |অগগ্রণ্যতার নীতিমালা |দু বছরের সফলতার রেকর্ড করেছেন, তাদেরকে কোলেটারাল সিকুরিটি |ফাউন্ডেশন), বিসিক | |রিসোর্স ব্যবহার করে সফলভাবে পণ্য বাজারজাত করেছে, তাকে ঋণ দিলে তার |
| |তৈরী করা |ছাড়াই ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করা। | | |সফলতার সম্ভাবনা অনেক বেশী, জনগণের অর্থের সদ্ব্যবহার হবে, ঋণ-খেলাপী |
| | | | | |হবার সম্ভাবনাও অনেক কম হবে। |
|৭ |বাজারজাতকরণে সহযোগী |প্রকৌশল ভিত্তিক ক্ষুদ্র শিল্পের পণ্য বাজারজাত করণে সরকারী |বিসিক, এসএমই ফাউন্ডেশন,|এসএমই ফাউন্ডেশন |বাজারজাত করণ ক্ষুদ্র শিল্পে একটি বড় সমস্যা।পাইকারী ব্যবসায়ীরা ক্ষুদ্র |
| |প্রতিষ্ঠান স্থাপন |সহযোগিতায় প্রতি উপজেলায় সমবায় ভিত্তিক খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান |সংশ্লিষ্ট সমিতিসমুহ | |শিল্পেদ্যোক্তাদেরকে ঠকায় ও হয়রানী করে। তাই সমবায় ভিত্তিক বাজারজাত |
| | |চালু করা | | |করণ, বিজ্ঞাপন ও প্রদর্শনীর আয়োজন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। |
|৮ |পণ্য রপ্তানীতে সহযোগী |প্রকৌশল ভিত্তিক ক্ষুদ্র শিল্পের পণ্য বিদেশে রপ্তানীর জন্য রপ্তানী |রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরো, |এসএমই ফাউন্ডেশন |আমাদের ক্ষুদ্র শিল্পের প্রকৌশল ভিত্তিক পণ্য উৎপাদনে উল্লিখিত পদক্ষেপগুলো |
| |প্রতিষ্ঠানে বিশেষ শাখা|উন্নয়ন ব্যুরোতে আলাদা শাখা খোলা প্রয়োজন, যারা তথ্য ও |এসএমই ফাউন্ডেশন, | |বাস্তবায়ন করলে এসব পণ্যের বিদেশে, বিশেচ করে আফ্রিকা মহাদেশে প্রচুর |
| |স্থাপন |নিয়মকানুন বিষয়ে সহযোগিতা দেবে, পণ্য প্রচারে সহযোগিতা দেবে। |সংশ্লিষ্ট সমিতিসমুহ, | |চাহিদা হবে। এ জন্য রপ্তানী সহায়ক কার্যক্রম দরকার হবে। |
| | | |বৈদেশিক মন্ত্রণালয় | | |
|৯ |প্রদর্শনীর ব্যবস্থা |প্রতি জেলায়, প্রতি বছর |শিল্প মন্ত্রণালয়, রপ্তানী |এসএমই ফাউন্ডেশন |দেশীয় বাজার তৈরী করা |
| | |কেন্দ্রীয়ভাবে, প্রতি ২ বছর অন্তর |উন্নয়ন ব্যুরো | |বিদেশী বাজার তৈরী করা |
|১০ |গবেষণা প্রতিষ্ঠানের |সরকারী ও আধাসরকারী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পণ্য |বিসিএসআইআর, পারমাণবিক |এসএমই ফাউন্ডেশন |দেশে উচ্চ শিক্ষিত প্রযুক্তিবিদদের অনেক উদ্ভাবিত পণ্য গবেষণাগারেই পড়ে |
| |প্রযুক্তি-পণ্য |প্রস্তুত ও বিপণনের বিভাগ সৃষ্টি করা, এবং প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবিত |শক্তি কমিশন, পাবলিক | |থাকছে, জনগণের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। অন্য ব্যবসায়ীদের পক্ষে প্রযুক্তিগত পণ্য |
| |উদ্ভাবকদেরকে উদ্যোক্তা |সম্ভাবনাময় পণ্যের উদ্ভাবকদেরকে সে পণ্যের প্রস্তুত ও বিপণনের |বিশ্ববিদ্যালয়, বিটাক, | |প্রস্তুত করে বাজারজাত করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে |
| |হিসেবে পণ্য তৈরী করার|সঙ্গে সম্পৃক্ত করা, ও সফল হলে তাদেরকে এজন্য পুরস্কৃত করার ব্যবস্থা|ইত্যাদি | |প্রযুক্তি উদ্ভাবককেই উদ্যাক্তা হতে হবে (সারা পৃথিবীতে তাই হয়েছে, এখনও |
| |দায়িত্ব দেয়া |করা। পরবর্তীতে এসব পণ্যের প্রস্তুতকরণের প্রযুক্তি জনগণের মধ্যে | | |হচ্ছে)। এজন্য বিজ্ঞান ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর আইনী কাঠামোতে এবং |
| | |ছড়িয়ে দেয়ার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। | | |বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের চাকুরীর নিয়ম-কানুনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে |
| | | | | |হবে। |
|১১ |একীভুত ‘বিজ্ঞান, |বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কর্মকান্ডের প্রধান প্রয়োগ ক্ষুদ্র শিল্পে। তাই এ |প্রধান মন্ত্রী |এসএমই ফাউন্ডেশন, বিষয় |বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চার প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া |
| |প্রযুক্তি ও ক্ষুদ্র শিল্প |তিনটি বিষয়কে এক মন্ত্রণালয়ের আওতায় এনে এটিকে প্রয়োজনীয় অর্থ | |বিশেষজ্ঞ |উচিৎ প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও তার শিল্পায়ণের মাধ্যমে দেশের আপামর জনসাধারণের |
| |মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠা |ও জনবল প্রদান করতে হবে। | | |জীবনের মান উন্নয়ন করে একটি ন্যূনতম সুস্থ অবস্থায় তুলে নিয়ে আসা। তাহলে |
| |করা | | | |দেশের ‘মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল’, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ তৈরীর ইচ্ছা, |
| | | | | |২০২১ সালের মধ্যে মধ্য সারির দেশে উন্নীত হওয়া সম্ভব হবে। এজন্য এ সমন্বিত|
| | | | | |মন্ত্রণালয়টির প্রয়াজন এবং গুরুত্ব যথেষ্ট বেশী। |
|১২ |কর নীতিমালা প্রণয়নের |সংবিধানের ৮৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কর নীতিমালা প্রণয়নের দায়িত্ব |প্রধান মন্ত্রী, অর্থ, |এসএমই ফাউন্ডেশন, বিষয় |কর নীতিমালা একটি দেশকে সামগ্রিকভাবে এগিয়ে নিতে পারে বা ধ্বংস করে |
| |দায়িত্ব উচ্চ ক্ষমতার |সংসদের, কিন্তু বাস্তবে এনবিআর তা করে থাকে। এটিকে সিভিল |পরিকল্পনা, কৃষি, শিল্প, |বিশেষজ্ঞ |দিতে পারে। বৃটিশ ঔপনিবেশিকেরা কেবলমাত্র কর নীতিমালা তৈরী করে এ |
| |সংসদীয় কমিটির হাতে |সোসাইটির সমন্বয়ে সংসদীয় কমিটির হাতে ন্যস্ত করার পদক্ষেপ |বাণিজ্য, | |দেশের শিল্পকে ধ্বংস করে দরিদ্র ও আমদানী নির্ভর দেশে পরিণত করেছিল। তাই|
| |ন্যস্ত করা |নেয়া, এবং তার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা। |বিজ্ঞান-প্রযুক্তি-ক্ষুদ্র | |কর নীতিমালার সুদূর প্রসারী প্রভাব একটি দেশের জন্য অতি প্রয়োজনীয়, যা |
| | | |শিল্প মন্ত্রণালয় | |এনবিআর এর হাতে ছাড়া ঠিক হয় নি।** |

গ-৩) দীর্ঘ-মেয়াদী কর্ম পরিকল্পনাঃ

|ক্রমিক নং |করণীয় |প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ |দায়িত্বশীল দপ্তর/গোষ্ঠী/ব্যক্তি |তদারকী |মন্তব্য |
| | | | |দপ্তর/গোষ্ঠী/ব্যক্তি | |
|১ |ইনকিউবেশন সেন্টার |নতুন নতুন পণ্যের ও তার প্রস্তুতকরণের যাবতীয় প্রযুক্তি |বিসিক, বিসিএসআইআর, বিটাক, ক্ষুদ্র শিল্প |এসএমই ফাউন্ডেশন |বিসিএসআইআর এর মত প্রতিষ্ঠানকে ক্ষুদ্র শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত করা |
| |প্রতিষ্ঠা করা |উদ্ভাবন করে তার উপর ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদেরকে প্রশিক্ষণ |সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (যা স্থাপনের সুপারিশ | |দরকার। |
| | |দেয়ার ব্যবস্থা করা |আগে করা হয়েছে) | | |
|২ |স্কুলের পাঠ্য বিষয়ে ক্ষুদ্র |বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিষয়ে এ উদ্দেশ্যে পাঠ্য বিষয়বস্তু |শিক্ষা মন্ত্রণালয়, জাতীয় কারিকুলাম ও |এসএমই ফাউন্ডেশন |যে সব কিশোর স্কুল পর্যায়েই ঝরে যায় তারাও যেন দেশের ক্ষুদ্র শিল্পে |
| |শিল্প স্থাপনের কিছু |অন্তর্ভুক্ত করা, আশে পাশের ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠান দর্শনের|টেক্সট বুক বোর্ড, জাতীয় কারিগরী শিক্ষা | |অবদান রাখতে পারে, তার জন্য পাঠ্য বিষয়ে এ ধরণের বিষয়বস্তু রাখা ও|
| |প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তা হবার |ব্যবস্থা রাখা। |বোর্ড, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, শিল্প মন্ত্রণালয়| |হাতে কলমে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য আশে পাশের ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠান |
| |মত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা | | | |দর্শনের ব্যবস্থা রাখা দরকার। |
|৩ |আরও বেশী পলিটেকনিক স্কুল|নতুন পলিটেকনিক স্কুল স্থাপন, পুরানোগুলোর উন্নয়ন, ও পাঠ্য|শিক্ষা মন্ত্রণালয়, জাতীয় কারিগরী শিক্ষা |এসএমই ফাউন্ডেশন |বাংলাদেশের বিদ্যমান আর্থ-সামাজিক এবং প্রযুক্তিগত অবস্থানের |
| |চালু করা ও কারিকুলামে |সূচীতে পণ্যের প্রযুক্তি, শিল্পের জন্য ডিজাইন, এবং |বোর্ড, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, শিল্প মন্ত্রণালয়| |প্রেক্ষাপটে নতুন নতুন ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনে পলিটেকনিক |
| |উদ্যোক্তা হবার মত বিষয় |উদ্যাক্তা হবার মত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা | | |ডিপ্লোমাপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের ভুমিকা বেশী। তাই এ ধরণের শিক্ষা |
| |অন্তর্ভুক্ত করা | | | |প্রতিষ্ঠান আরও বাড়াতে হবে এবং তার পাঠ্যসূচীতে উল্লিখিত বিষয়াদি |
| | | | | |অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। |
|৪ |বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে |বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল শিক্ষায় |বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন, |এসএমই ফাউন্ডেশন |বিদ্যমান পাঠ্যসুচীতে বিভিন্ন প্রযুক্তির মৌলিক বিষয়াদি শেখানো হয়, |
| |বিজ্ঞান ও প্রকৌশল শিক্ষায়|প্রযুক্তিভিত্তিক পণ্যের এবং পণ্য- প্রস্তুতকরণ প্রক্রিয়ার |বিশ্ববিদ্যালয়সমুহ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিল্প| |কিন্তু প্রযুক্তিটিকে কি ভাবে শিল্পে নিয়ে যাওয়া যায়, শিল্পের জন্য |
| |প্রযুক্তিভিত্তিক পণ্যের এবং|উদ্ভাবন, ডিজাইন ও উন্নয়নের জন্য পাঠ্যসূচীর মধ্যে |মন্ত্রণালয় | |ডিজাইন করা যায়, জনসাধারণের সংস্কৃতি, আচার ইত্যাদি মাথায় রেখে |
| |পণ্য- প্রস্তুতকরণ বিষয় |প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে। | | |কিভাবে প্রতিযাগিতামূলক মূল্যে তা ডিজাইন করা যায়, কিভাবে তার জন্য|
| |অন্তর্ভুক্ত করা | | | |প্রস্তুতকরণ প্রযুক্তি তৈরী বা ইমপ্রভাইজ করা যায় এ সব বিষয় পড়ানো হয়|
| | | | | |না। এ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো |
| | | | | |ভবিষ্যতে দেশের শিল্পায়ণে সাহায্য ও সহযোগিতা করতে পারবে। |

ঘ) মন্তব্য

দুঃখজনকভাবে গোড়া থেকে কর নীতিমালা তৈরীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এনবিআর কে যাদের মূল দায়িত্ব হচ্ছে কি ভাবে দেশের রাজস্ব ভান্ডারে বেশী টাকা আনা যায়, এবং সেটিই তাদের একমাত্র ধ্যান ধারণা। এর ফলে তার সোনার ডিম পাড়া হাঁসকে মেরে ফেলছে কিনা তা তাদের চিন্তা-চেতনায় আসার কথা নয়। বিভিন্ন ব্যক্তি, সমিতি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এনবিআর মতামত নিয়ে থাকে, কিন্তু চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত এনবিআরই নিয়ে থাকে। বাস্তবে দেশ ভবিষ্যতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে কোন কোন নতুন প্রযুক্তির দিকে দেশকে এগোতে হবে, কোথায় কোথায় দেশের মানুষকে বিদেশ থেকে আসা পণ্য ও অন্যান্য সম্ভার থেকে রক্ষা করার জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে, তার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা এনবিআর এর থাকার কথা নয়। এ কাজের জন্য গভীর জীবন বোধ, জ্ঞান ও দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রয়োজন, এর জন্য বিশেষ গবেষণা সেল প্রয়োজন যা দেশের অতীতের সব ভুল থেকে শিক্ষা নিতে পারে, বিদেশের বিভিন্ন অভিজ্ঞতাকে দেশের পরিপ্রেক্ষিতে যথোপযোগীভাবে বিশ্লেষণ করে করণীয় নির্ধারণ করতে পারে। এনবিআর দপ্তরে এ কাজের জন্য কোনো গবেষণা সেলও নেই। তাই এখনও সে দপ্তরের উচ্চ পদস্থ অফিসারদের ব্যক্তিগত অনুধাবন এবং ইচ্ছা অনিচ্ছার উপরে দেশের কর নীতিমালা নির্ভর করে। বলা বাহুল্য এর ফলে সহজেই সেখানে দুর্নীতি ঢুকে যেতে পারে, এবং বিভিন্ন সময়ে স্বয়ং অর্থ মন্ত্রীদের কথায় তা প্রতিফলিত হয়েছে। দেশের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর মত এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়কে আমরা এ ভাবে ব্যক্তিবিশেষের অনুধাবন ও ইচ্ছা-অনিচ্ছার উপর ছেড়ে রেখেছি, আর স্বাধীনতার ৪১ বছর পরওএ বিষয়টি আমরা অনুধাবন করতে পারি নি, এটি বড় দুঃখজনক।

অর্থ মন্ত্রীর কাছে চুড়ান্ত কর নীতিমালা পেশ করা হয়ে থাকে, তিনি সামগ্রিকভাবে দেখে থাকেন, কিন্তু হাজার হাজার পণ্যের বিশদ করের তালিকা তার পক্ষে দেখা অসম্ভব। তিনি সামগ্রিক কিছু নীতিমালা হয়ত ঠিক করে দেন। দেখা যায় মন্ত্রীকে বা এনবিআর এর অফিসারদেরকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিশেষ কোন একটি পণ্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রভাব বিস্তার করলে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে কিছু পরিবর্তন হয়ত আনা হয়। কিন্তু এতে দেশের সামগ্রিক স্বার্থ দেখার সুযোগ থাকে না। অপর দিকে ক্ষুদ্র শিল্পের স্বল্প শিক্ষিত ও সামাজিক প্রভাবহীন উদ্যোক্তাদের পক্ষে বাংলাদেশের বিদ্যমান বাস্তবতায় অর্থ মন্ত্রী বা এনবিআর এর উচ্চপদস্থ অফিসারদের কাছে ব্যক্তিগতভাবে তাদের কথা সরাসরি পৌছে দেয়ার সুযোগ কতটা আছে তা সহজেই অনুমেয়। তাই ধনী আমদানীকারক এবং বড় বড় শিল্পের স্বার্থে অনেক নীতিমালা হয় যা ক্ষুদ্র শিল্পের বিপক্ষে গিয়ে তাদেরকে ধ্বংস করে দেয়। এ কারণেই এত জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশ দরিদ্র হয়ে আছে। এ দেশের মানুষের যে সহজাত বুদ্ধিবৃত্তি রয়েছে, তা অনেক দেশের তুলনায় বেশী। এ কারণেই এক সময়ে সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে পৃথিবী জোড়া খ্যাতি ছিল, যার কারণে বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ এসে এ দেশে থেকে গেছে, বা এ দেশ থেকে সম্পদ লুট করে নিয়েছে। অথচ, দুঃখ, এভাবে ব্যক্তিবিশেষের, বিশেষ করে মূল দায়িত্বের ভিন্নতার কারণে যাদের মন-মানসিকতা কর নীতিমালা প্রণয়নের উপযোগী নয়, যাদেরকে দুর্নীতির মাধ্যমে প্রভাবান্বিত করা খুবই সহজ, তাদের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের উপর সারা দেশের কর নীতিমালা পরিচালিত হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ ও ইলেকট্রনিকস খাতে কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরা যায়। ১৯৯৮ সালে কম্পিউটারের এবং সাথে আনা অ্যাক্সেসরীজ এর উপর থেকে আমদানী কর ও ভ্যাট শুণ্য করে দেয়া হয়। অথচ কম্পিউটারের ইউপিএস তখন দেশে তৈরী হতে শুরু করেছে, এবং কম্পিউটারের চাহিদা বৃদ্ধির সাথে সাথে এ দেশের তরুণেরা দেশে ইউপিএস তৈরীর এক বিশাল সম্ভাবনা দেখে সেদিকে প্রচেষ্টা ও বিনিয়োগ করতে শুরু করে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে কম্পিউটারের সাথে ইউপিএস এর উপর আমদানী কর ও ভ্যাট শুণ্য করে দেয়া হয়, কিন্তু স্থানীয় উৎপাদনের উপর থেকে নয়। এ অবস্থা আজ ১৪ বছর পরও বহাল আছে। ইউপিএস এর মূল উপাদান সিল্‌ড ব্যাটারীর উপর উচ্চ হারে সাপ্লিমেন্টারী ডিউটি বহাল থাকে, অথচ আমদানী করা ইউপিএস এর ভিতর ঐ একই ব্যাটারী বিনা শুল্কে এসে যায়। আর দেশেই এ ধরণের ব্যাটারী কেউ তৈরী করত না, এখনও করে না। আমরা কয়েকবারই এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করে ২০০৫ এর দিকে এসএমই টাস্ক ফোর্সের মাধ্যমে দেখিয়েছি যে একটি ৫০০ ভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন ইউপিএস আমদানী করতে দেশের রাজস্ব খাতে দিতে হয় মোট ১৫০ টাকা মাত্র, কিন্তু একই ক্ষমতার ইউপিএস ক্ষুদ্র শিল্পের মাধ্যমে দেশে তৈরী করতে গেলে সরকারের রাজস্ব খাতে দিতে হয় প্রায় ১০০০ টাকা, যা কোন স্বাধীন দেশের কর নীতিমালার পরিচায়ক নয়। এর প্রেক্ষিতে এ পর্যন্ত যা পরিবর্তন হয়েছে তাতে পার্থক্যটিকে সামান্য কমানো হয়েছে মাত্র, এখনও দেশে তৈরীতে বেশী কর এর অবস্থাটি রয়ে গেছে। এ ছাড়া সোলার ফটোভোল্টায়িক এর সাথের সব ইলেকট্রনিক সামগ্রীকের আমদানীতেও সম্পূর্ণ কর ও ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া হয়, যা এখনও বহাল আছে। এ সুযোগে ইলেট্রনিকসের অনেক পণ্য এ দুটি পণ্যের ঘোষণায় শূণ্য করে দেশে ঢুকে গেছে। এর ফলে দেশে ইলেট্রনিকস শিল্পের যে সম্ভাবনা দেশবাসী দেড় দু দশক আগে দেখেছিল, তা বাস্তবায়িত হয় নি, এ শিল্পখাতটি আজ ধ্বংসপ্রায়।

তাছাড়া কম্পিউটারকেও কর অব্যাহতি দেয়ার ফলে আমাদের দেশে কমিপউটার এর বিশাল বিস্তারের যুগে এটি ও তার বিভিন্ন অ্যাক্সেসরীজ তৈরী হবার যে সুযোগ ছিল তাও বন্ধ হয়ে গেছে এ কর নীতিমালায়। আমাদের দেশে যখন কম্পিউটারকে আমদানীকরমুক্ত করা হয় তখন পাশের দেশ ভারতে কম্পিউটারের উপর ৪০% এর বেশী কর ছিল। তারা কি কম্পিউটারের অগ্রগতিতে বাংলাদেশ থেকে পিছিয়ে আছে? শোনা যায় এক সময়ে বাংলাদেশ থেকে বহুল পরিমাণে কম্পিউটার ও অ্যাক্সেসরীজ ভারতে চোরাচালানী হয়েছে। এ কারণেই হয়ত বর্তমানে সেখানে কম্পিউটারের উপর কর কমিয়ে ১৭% নামানো হয়েছে, কিন্তু আমাদের মত শূণ্য করা হয় নি। তাই সেখানে নিজস্ব কম্পিউটার তৈরী হচ্ছে, দেশের সাধারণ মানুষের কাছে স্বল্প মূল্যে কম্পিউটার পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। শূণ্য আমদানী করের আওতা চলতে থাকলে আমাদের দেশে মেধা ও দক্ষতা থাকলেও কখনও কি নিজস্ব প্রযুক্তিতে কম্পিউটার তৈরী করা সম্ভব হবে? ইতিমধ্যে ১৪ বছর ধরে কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা ভ্যাট ও অন্যান্য কর মওকুফের সুবিধা পেয়েছে, এটি এখন বন্ধ করা দরকার। তাই কম্পিউটারের উপর ধীরে ধীরে ভ্যাট ও অন্যান্য আমদানী কর আরোপ করা দরকার।

অপর উদাহরণটি হচ্ছে টেলিভিশন অ্যাসেম্বলী বা সংযোজন শিল্পের। গত ১৯৯০ এর দশকে ঘরে ঘরে টেলিভিশন সংযোজন শিল্প গড়ে উঠে এ পণ্যটির দাম অনেক কমে গিয়ে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে চলে আসে। শহরের বস্তিবাসী দরিদ্রদেরকেও টেলিভিশন ব্যবহার করতে দেখা যায়। এমনকি টেলিভিশন সংযোজনের জন্য কতগুলো দল তৈরী হয়ে যায়। কোন উদ্যোক্তা একসাথে অনেকগুলো সম্পূর্ণ বিযুক্ত (সিকেডি) টেলিভিশন কিট আমদানী করে এ দলদের কাউকে খবর দিলে তার এসে দুতিন সপ্তাহে কয়েকশত টেলিভশন সংযোজন করে দিয়ে যেত। পরে সে উদ্যোক্তা তার বাজারজাত করত। এ ধরণের একটি অবস্থা দেশের অগ্রগতির জন্য খুবই সুসংবাদ ছিল। কিন্তু ২০০২ সালে ঘোষিত কর নীতিমালায় সম্পূর্ণ বিযুক্ত টেলিভিশন কিট এবং সম্পূর্ণ তৈরী টেলিভিশনের মধ্যোকার কর পার্থক্য অনেক কমিয়ে দেয়া হয়। ফলে দেশের সব ক্ষুদ্র টেলিভিশন সংযোজন শিল্প ধ্বংস হয়ে যায়, উন্নত ব্র্যান্ডের দু তিনটি বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান ছাড়া। ২০০৩ সালের বাজেটের আগে তদনীন্তন এনবিআর এর চেয়ারম্যানের কাছে এ বিষয়টি তুলে ধরলে তিনি স্বীকার করেন যে বড় ভুল হয়ে গেছে, এবং ২০০৩ সালে ঘোষিত কর নীতিমালায় এর সংশোধন করে আগের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু উক্ত চেয়ারম্যান বদলী হয়ে যাওয়ার পর ২০০৪ সালের মার্চ মাসে সম্পূর্ণ বিযুক্ত টেলিভিশন কিট এর উপর উচ্চ ২২.৫% হারে এবং সম্পূর্ণ তৈরী টেলিভিশনের উপর মাত্র ৫% হারে রেগুলেটরী ডিউটি আরোপ করা হয়। তারপর ২০০৪ সালের বাজেটে সম্পূর্ণ বিযুক্ত টেলিভিশন কিট এবং সম্পূর্ণ তৈরী টেলিভিশনের উপর এক সমান হারে আমদানী কর ও ভ্যাট আরোপ করা হয়। যার ফলে ক্ষুদ্র টেলিভিশন সংযোজন শিল্প যেন আর মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে তার ব্যবস্থা করা হয়। এভাবে এতদিন চলে আসছে। তার মধ্যেও কোন কোন ক্ষুদ্র শিল্প চেষ্টা করছিল কোনভাবে এ বাজারটি ধরা যায় কিনা। কিন্তু তাদের সে চেষ্টাও বন্ধ করে দেয়ার জন্য পরবর্তীতে ২০১০ সালের বাজেটে আরও একটি নতুন কর নীতি চালু করা হয়। কেবলমাত্র নিবন্ধনকৃত টেলিভিশন সংযোজন শিল্পই উপরিউক্ত হারে সম্পূর্ণ বিযুক্ত টেলিভিশন কিট আমদানী করতে পারবে। অন্য কেউ আমদানী করতে চাইলে তারে আরও ২০% হারে বাড়তি সম্পুরক শুল্ক দিতে হবে। অর্থাৎ যেখানে ফিনিশ্‌ড টেলিভিশন আমদানীতে ২৫% আমদানী কর, সেখানে তার যন্ত্রাংশ সাধারণভাবে আমদানীতে কর হল ৪৫%! কোন স্বাধীন দেশে এমনটি ভাবা যায়? ক্ষুদ্র সংযোজন শিল্পগুলো নিজেরা সম্পূর্ণ বিযুক্ত টেলিভিশন কিট আমদানী করতে পারে না। যন্ত্রাংশ আমদানীকারকেরা একসাথে আমদানী করে বাজারে তা ছড়িয়ে দেন, ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোক্তারা বাজার থেকে অল্প সংখ্যায় কিনে কিনে সংযোজন করে থাকেন। এটি দেশের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য একটি কাঙ্খিত ব্যবস্থা, কিন্তু সেটি যেন হতে না পারে তার ব্যবস্থাই যেন করা হল। অর্থাৎ আমদানীকারকদের পাশাপাশি দেশে বড় বড় সংযোজন শিল্পের স্বার্থে ক্ষুদ্র শিল্পকে বিসর্জন দেয়া হল।

২০০০ সালে কিছু বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির উদ্যোগে সরকারকে বোঝানোর সুযোগ হয়। দেশের নিজস্ব প্রযুক্তির ইলেকট্রনিকস শিল্পের রক্ষা ও প্রসারের জন্য তাদের উপর থেকে ১৫% ভ্যাট এর পরিবর্তে মূল্য সংকোচন ভিত্তিতে ২.৫% টার্ণ-ওভার কর আরোপের সিদ্ধান্ত হয়। কর নীতিমালা সহজ করে ফেললে ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো কর দিয়ে নিজেদের আইনী অবস্থানকে পোক্ত করতে পারবে। এর ফলে দুর্নীতিবাজ কর্মচারীরা তাদের হয়রানী করতে পারবে না। কিন্তু এনবিআর এ সিদ্ধান্ত কখনোই বাস্তবায়ন করে নি, দেশের বিশেষজ্ঞদের অনেক অনুরোধ ও প্রচেষ্টা সত্ত্বেও। কেন, তা সহজেই অনুমান করা যায়।

ইদানীং দেখা গেছে বড় বড় দু একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান রেফ্রিজারেটর সংযোজন শিল্প শুরু করেছে, সাথে সাথে রেফ্রিজারেটর সংযোজনের উপর থেকে ভ্যাট ৪ বছরের জন্য সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে, আর আমদানীর উপর কর বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। অথচ এ ধরণের প্রযুক্তি ও প্রকৌশল নির্ভর ক্ষুদ্র শিল্প যেখানে লক্ষ উদ্যোক্তা তৈরী করে দেশে লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্ম সংস্থান করতে পারত, বিদেশে রপ্তানীর সুযোগ করে দিতে পারত, তাদের জন্য বছরের পর বছর অনুরাধ উপরোধ করা সত্ত্বেও তাদের তৈরী পণ্যের উপর থেকে ভ্যাট প্রত্যাহার করার, বা ভ্যাট সহজীকরণ করা হয় নি।

তাই কর নীতিমালা প্রণয়ণের বিষয়টি জাতির অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। এটিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মত একটি সরকারী প্রতিষ্ঠানের উপরে ছেড়ে দেয়া যায় না। বিশেষায়িত বিষয়ে দেশের বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিত্ব, বিশ্ববিদ্যালয়, সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র, মাঝারী ও বৃহৎ শিল্প ও ব্যবসায়ী সমিতি, সংসদীয় কমিটি, এনবিআর, ট্যারিফ কমিশন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় – অনেকের সমন্বয়ে কর নীতিমালা তৈরী করা প্রয়োজন, বিভিন্ন বিষয়ে আলাদা আলাদা সাব-কমিটি তৈরীর মাধ্যমে। এর নেতৃত্ব থাকতে হবে সরকারী আমলাতন্ত্রের বাইরে। বৃটিশ ঔপনিবেশিক শক্তি কেবলমাত্র কর নীতিমালার মাধ্যমে এ দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে কোটি কোটি মানুষকে পথে বসিয়ে দিয়েছিল, যার প্রভাব কোন না কোন ভাবে এখনও আমাদের উপর রয়েছে। এ কর নীতিমালার পরিবর্তনের মাধ্যমেই কেবল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আশা করতে পারি। অন্য কোন উপায়ে হাজারও চেষ্টা করলেও হবে না। আশা করি আমাদের বোধোদয় হবে এবং দেশের স্বার্থ ও দেশের ভবিষ্যৎ আমাদের কর নীতিমালার মধ্যে প্রতিফলিত হয়ে ২০২১ সালের আগেই মাঝারী দেশে উন্নীত হবার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।

----------------------------

Annex -1: List of attendance in the validation workshop

|SL |Name |Organization & Designation |
| |Syed Rezwanul Kabir |SME Foundation |
| | |Royal Tower, 4 Panthapath, Kawran Bazar, Dhaka - 1215 |
| | | |
| | |Managing Director & CEO |
| |Mr. Md. Mujibur Rahman |SME Foundation |
| | |Royal Tower, 4 Panthapath, Kawran Bazar, Dhaka - 1215 |
| | | |
| | |Deputy General Manager, |
| | |Policy Advocacy and Research Wing |
| |Mr. Mohammed Shahabuddin |National Board of Revenue (NBR) |
| | |Former, Member |
| | | |
| | |Flat # 5C, House # 46 (Yasmine's Regency), Road # 10 A, Dhanmondi R/A, |
| | |Dhaka-1209 |
| |Mr. A.K.M Rafiqul Islam |SME Cell, Ministry of Industry |
| | |Government of Bangladesh |
| | |Shilpa Bhaban, 91, Motijheel C.A, |
| | |Dhaka-1000 |
| | | |
| | |Deputy Secretary |
| |Mr. Absar Karim Chowdhury |The Fazal Industries |
| | |41/1, Horicharan Ray Road |
| | |Faridabad, Dhaka |
| | | |
| | |Proprietor |
| | |Ex. President, Bangladesh Electrical Merchandise Manufactures Association |
| | |(BEMMA) |
| |Mr. Mosharraf Hossain Bhuiyan |RR Electric Industries |
| | |157 Nawabpur Road, |
| | |Dhaka, Bangladesh |
| | | |
| | |President, Bangladesh Electrical Merchandise Manufactures Association (BEMMA) |
| |Mr. Md Kamal Hossain (Mredul) |Spark Power Industries |
| | |Central Electric Market, Standard Electric, 165, Nawabpur Road, |
| | |Dhaka, Bangladesh. |
| | | |
| | |Vice President , Bangladesh Electrical Merchandise Manufactures Association |
| | |(BEMMA) |
| |Mr. Shahin Ahmed |M.S. Electric market, 1st Floor, |
| | |Nawabpur, Dhaka, Bangladesh. |
| | | |
| | |Director, Bangladesh Electrical Merchandise Manufactures Association (BEMMA) |
| |Mr. Md. Joynal Abedin Khan |M/S. Power Link |
| | |127, Nawabpur Road, |
| | |Dhaka-1100 |
| | | |
| | |Proprietor |
| |Mr. Md. Sohidul Islam |Sadia Cable Co. |
| | |19/2, Kaji Abdul Hamid Lane, |
| | |Kotwali, Dhaka |
| | | |
| | |Director, Bangladesh Electrical Merchandise Manufactures Association (BEMMA) |
| |Mr. Md Shekh Arif Akbar |A.B.P Electric Co. |
| | |Kajirgaon Mridhabari, Jatrabari, Dhaka |
| | | |
| | |Proprietor |
| |Mr. Salahuddin Ahmed Mamun |Kamal Electric Store |
| | |3/7, Hazi Osman Goni Road, |
| | |Dhaka, Bangladesh. |
| | | |
| | |Director, Bangladesh Electrical Merchandise Manufactures Association (BEMMA) |
| |Mr. Abdul Wahed |Angel Bakelite Ind |
| | |South Kajla, Kutubkhali, Demra , |
| | |Dhaka, Bangladesh |
| | | |
| | |Director, Bangladesh Electrical Merchandise Manufactures Association (BEMMA) |
| | | |
| |Mr. Abul Kalam Azad |National Electronics Co. |
| | |1049, South Kajla , Nayanagar, |
| | |P.O.: Donia, P.S.: Demra |
| | |Dhaka, Bangladesh. |
| | | |
| | |Director, Bangladesh Electrical Merchandise Manufactures Association (BEMMA) |
| |Mr. Md. Abdul Mannan |Bangladesh Standards & Testing Institution (BSTI), Maan Bhaban , |
| | |116/A, Tejgaon Industrial Area, |
| | |Dhaka-1208 |
| | | |
| | |Deputy Director |
| |Engr. Md. Jaglul Kabir |Solid state BD |
| | |5/4 Monipuripara (2nd Floor) |
| | |Sangsad Avenue, Tejgaong |
| | |Dhaka - 1215 |
| | | |
| | |CEO |
| |Dr. Mahbubul Hoque |Institute of Electronics |
| | |Post Box No # 3787 |
| | |AERE, Gonok Bari, Savar |
| | | |
| | |Chief Scientific Officer & Director |
| |Dr. Abdus Sattar Syed |Ace Data Products |
| | |East-North Side, 5th Floor, BDBL Bhaban (former BSRS Bhaban) |
| | |12 Kazi Nazrul Islam Avenue |
| | |Karwanbazaar , Dhaka 1215 |
| | | |
| | |Proprietor |
| |Prof. Dr. Zahid Hasan Mahmood |Department of Applied Physics Electronics and Communication Engineering, The |
| | |University of Dhaka, Dhaka - 1000 |
| | | |
| | |Professor |
| |Mr. Md. Ashraful Alam |SME & Special Programmes Department, Bangladesh Bank, Motijheel C/A, Dhaka - |
| | |1000 |
| | | |
| | |Joint Director |
| | | |
| |Lion M. A. Mannan |Perfect Wire & Electricals Ind. |
| | |Road-21/A, Plot-8, Shaympur-Kadomtoli I/A, Dhaka |
| | | |
| | |Director, Bangladesh Electrical Merchandise Manufactures Association (BEMMA) |
| |Mr. Mian Ashik Murshed |SME Foundation |
| | |Royal Tower, 4 Panthapath, Kawran Bazar, Dhaka - 1215 |
| | | |
| | |Program Manager |
| |Mr. Abu Monzoor Sayeef |SME Foundation |
| | |Royal Tower, 4 Panthapath, Kawran Bazar, Dhaka - 1215 |
| | | |
| | |Program Manager |
| |Mr. Akhil Ranjan Tarafder |SME Foundation |
| | |Royal Tower, 4 Panthapath, Kawran Bazar, Dhaka - 1215 |
| | | |
| | |Program Officer |
| |Mr. Md. Joynal Abdin |SME Foundation |
| | |Royal Tower, 4 Panthapath, Kawran Bazar, Dhaka - 1215 |
| | | |
| | |Program Officer |…...

Similar Documents

Premium Essay

Smes Failures

...ECONOMIC IMPLICATIONS OF CONSTANT POWER OUTAGES ON SMES IN NIGERIA International Centre for Basic Research, 20 Limpopo Street, FHA, Abuja College of Engineering and Engineering Technology, Department of Electrical and Electronic Engineering, Michael Okpara University of Agriculture, Umudike, Abia State been identified [2]. A particular finding revealed the high cost of providing back-up energy (partly infrastructural) for SMEs which sometimes is as critical as three times the cost of publicly supplied electricity [3], [4]. In Nigeria and perhaps generally, SMEs classification is done on the basis of capital investment and employed labour force while other criteria could be the annual turnover or gross output [5]. Until very recently, energy was rarely cited as one of the problems militating against the development of SMEs in Nigeria and elsewhere. This study is built on the argument that, unlike larger businesses, the establishment and operation of SMEs promotes economic development which by extension, boosts a country’s GDP number [6] (see Fig. 1). A separate study identifies this link (between SMEs and GDP) but could not establish if it is actually responsible for economic growth [7] while another study presents a decreasing link of 51%, 39% and 16% of GDP being produced by SMEs in high-income, medium income and low-income countries respectively [8]. Elsewhere, it has been confirmed that SMEs were responsible for pulling the US out of economic slump and can therefore,......

Words: 4169 - Pages: 17

Premium Essay

Sme Report

...Introduction The development of small and medium enterprises (SMEs) in developing countries is generally believed to be a desirable end in view of their perceived contribution to decentralized job creation and generation of output. SMEs constitute the dominant source of industrial employment in Bangladesh (80%), and about 90% of the industrial units fall into this category. The actual performance of SMEs, however, varies depending on the relative economic efficiency, the macro-economic policy environment and the specific promotion policies pursued for their benefit. For the JOBS Program, Zaid Bakht (1998) and Salahuddin Ahmad, et al. (1998) developed research papers that describe the policy environment within which SMEs in Bangladesh operate. The reports also discuss the accompanying legal, regulatory and administrative constraints to employment creation by SMEs. This paper attempts to highlight the findings of those two studies. To complement the issues discussed in those two papers, a summary of industrial problems, as perceived by entrepreneurs during the past one decade (HIID, 1988; MCCI 1992; World Bank 1994; JOBS 1998), is also presented in this report. In Bangladesh, SMEs playing a significant role for the development of our economy by creating employment opportunity and producing important alternative machines and machinery parts for saving huge foreign currency for our country. So as a part of our development strategy, we should intensify our efforts to...

Words: 536 - Pages: 3

Premium Essay

Smes

...Article 1: Exploring new supply chain strategies in manufacturing SMEs Summary: The article explores about the different types of supply chain strategies in manufacturing SMEs. Kamel A. Fantazy, Vinod Kumar and Uma Kumar are professors at Sprott School of Business. They did a research on what kinds of supply chain management strategies are usually adopted by SMEs. A research survey was created and distributed among 1500 Canadian SMEs, out of which only 175 were used as a sample. That’s how many responses were collected. Previously, the supply chain strategies of all the SMEs were classified into the following four: * Modularizing * Appending * Innovating * Following After the responses were computed, it was found out that modularizing and appending does not really exist, but there is another one which has been prevailing the manufacturing SMEs. It is known as Customer Oriented Strategy. So, now there is three types in total which are COS, INS and FOS. The results did not show any correlation with modularizing and appending and hence, were dropped off. Lessons Learnt: * Activities within the supply chain must be Customer Based. SMEs should be Customer Oriented. They should try to satisfy the customer needs. * Understanding customers’ need knowing how to satisfy them, is a key. * Every supply chain must have a Customer strategy. But this is going to be different for every supply chain company because every company is going to adopt a......

Words: 1004 - Pages: 5

Free Essay

Smes

...Cairo University Faculty of Economics & Political Science Post graduate studies Economic Department Finance for Growth and Role of SMEs An Application to Egyptian Case Prepared by: 1- Amr Hassan Elkady 2- Nashwa Mohamed Hussein Presented to: Prof. Hala El-Saied 2010 In September 2004, the Financial Sector Reform Program was launched and endorsed by the Government of Egypt at the highest political level. The five pillars of the program are reforming the banking sector, restructuring the insurance sector, deepening the capital markets, developing a well functioning mortgage market, and activating other non-bank financial institutions and services. The program aims at improving the soundness of the financial sector and promoting an enabling environment for an efficient, competitive and agile financial system that serves Egypt’s development and growth objectives. The progress and pace of the Egyptian Financial Sector Reform Program have been commended at home and abroad. However, we still have some way to go to fully reform the sector and address its main challenges; one of which is ensuring better access to financial services which is imperative to economic growth and development. Improving access to finance allows businesses, especially small and......

Words: 5415 - Pages: 22

Premium Essay

Internationalization of Smes

...Internationalization of SMEs Overview: 1. Introduction 2. Motivation for Internationalization of SMEs 3. Strategies for Internationalization of SMEs 4. Risks and Opportunities 5. Internationalization of SMEs – Best approach 6. Conclusion 7. References Introduction In Europe companies with less than 10 employees are considered to be micro-firms, those with less than 50 employees are small-firms and those with less than 250 employees are considered as medium-firms. In the US however the size of small firms sums up to 100 employees and medium sized firms may have less than 500 employees. SMEs are key actors in the world economy because they are an important part of GDP and play a big role for employment. Since today’s world becomes more and more globalized it is important that firms can compete on an international level. Big enterprises often choose to internationalize their business but for them this process mostly isn’t as risky as for SMEs, because while big firms may lose parts of their firm budget if something goes wrong, SMEs have to fight for their existence and may disappear at all if they choose a wrong approach of internationalizing. Usually small start-up companies do not survive longer than the first 5 years therefore it is very important for SMEs to take the right steps in order to become successful. Motivations for Internationalization of SMEs There are different types of motivations for going international. These are...

Words: 1727 - Pages: 7

Premium Essay

Smes in Ghana

...Background of Literature Review on SMEs in Ghana: Globally, the contribution of Small and Medium Enterprises (SMEs) to the growth of national economies is significant. In the developed economies such as Germany and the United Kingdom small businesses are recognized as the main engines for growth and development. Indeed, studies conducted in recent years in developed markets, including the Freedman studies done in the United Kingdom, confirm that small businesses account for the highest number of registered companies and make significant contributions to economic growth and prosperity. In Ghana, readily available data on SMEs is scarce but statistics from the Registrar General’s Department suggests that 92 per cent of companies registered are micro, small and medium enterprises. SMEs in Ghana have also been noted to provide about 85 per cent of manufacturing employment, contribute about 70 per cent to Ghana’s GDP, and therefore have catalytic impacts on economic growth, income and employment. It is estimated that SMEs employ 22% of the adult population in developing countries (Daniels, 1994; Daniels & Ngwira, 1992; Daniels & fisseha. 1992; Fisseha. 1992; Fisseha & Mcpherson, 1991; Gallagher & Robson, 1995 and Kayanula & Quartey, 2000). The sector employs about 15.5% of the labour force in Ghana (Parker et al, 1994), has experienced higher employment growth than micro and large – scale enterprises. Definition of SMEs There is no single, uniformly acceptable definition of a......

Words: 1637 - Pages: 7

Premium Essay

Factoring Sme

...Around the world, factoring is a growing source of external financing for corporations and small and medium-size enterprises (SMEs). What is unique about factoring is that the credit provided by a lender is explicitly linked to the value of a supplier’s accounts receivable and not the supplier’s overall creditworthiness. Therefore, factoring allows high-risk suppliers to transfer their credit risk to their high-quality buyers. Factoring may be particularly useful in countries with weak judicial enforcement and imperfect records of upholding seniority claims, because receivables are sold, rather than collateralized, and factored receivables are not part of the estate of a bankrupt SME. Empirical tests find that factoring is larger in countries with greater economic development and growth and developed credit information bureaus. In addition, we find that creditor rights are not related to factoring. This paper also discusses “reverse factoring”, which is a technology that can mitigate the problem of borrowers’ informational opacity in business environments with weak information infrastructures if only receivables from high- quality buyers are factored. We illustrate the case of the Nafin reverse factoring program in Mexico and highlight how the use of electronic channels and a supportive legal and regulatory environment can cut costs and provide greater SME services in emerging markets. World Bank Policy Research Working Paper 3593, May 2005 The Policy Research Working Paper......

Words: 11362 - Pages: 46

Premium Essay

Sme Financing

...SME Financing in the United Arab Emirates www.khalifafund.ae SME Financing in the United Arab Emirates Executive Summary 1. Introduction & Context 1.1 Background to the Study 1.2 Objectives of this Work 1.3 Consultations 1.4 Limitations 2.1 Definition of ‘SME’ 2.1.1 EU Definition of SME 2.1.2 World Bank Definition of SME 2.1.3 Criteria Used by Banks to Define SMEs 2.1.4 UAE Definitions of SME 2.2 Current overview of SME prevalence in Abu Dhabi/UAE 3.1 Scale of SME Finance in the UAE 3.2 Supply of Finance by Type 3.3 Sources of Finance 3.4 Stakeholder Mapping 3.5 SME Access to Finance Process 3.6 KPIs / metrics and baseline data 4.1 Key Findings – Supply Side 4.2 Key Findings – Demand Side 5.1 International Research Findings on Key Obstacles to Improving SME Access to Finance 5.2 Critical Success Factors to Improving Access to Finance for SMEs 6.1 Leading Practice SME Ecosystems: Singapore and the United Kingdom 6.2 Key Lessons Learned for the UAE 6.3 Detailed Review of Leading Practice and Regional Comparator Ecosystems 6.3.1 Singapore 6.3.2 United Kingdom 6.3.3 Jordan 6.3.4 Qatar 7.1 The core issues 7.2 n overview of the opportunities for KF and other (public and private) entities to A support SME access to finance in Abu Dhabi / UAE 7.2.1 Legal and Regulatory Transparency 7.2.2 Access to information 7.2.3 Capacity Building 7.2.4 Diversify SME Financing Mechanisms 7.3 Criteria 4 5 5 6 6 6 7 7 7 8 8 8......

Words: 11531 - Pages: 47

Free Essay

Smes in Bd

...also called small and medium enterprises (SMEs) or small and medium-sized businesses (SMBs) are businesses whose personnel numbers fall below certain limits. These are the most common businesses found across most of the world’s economies. The World Bank Review on Small Business Activities establishes the commitment of the World Bank Group to the development of the small and medium enterprise (SME) sector as a core element in its strategy to foster economic growth, employment and poverty alleviation. In the context of Bangladesh, the development of Small and Medium Enterprises (SMEs) can be considered as a vital instrument for poverty alleviation and ensure the rapid industrialization. So we can say that the role of Small and Medium Enterprises (SMEs) is indispensable for overall economic development of a country particularly for developing countries like Bangladesh. It has drawn a lot of interest among policy makers, academics, businessmen and people in general. Government of Bangladesh has highlighted the importance of SME in the Industrial Policy-2005. SMEs have been identified by the Ministry of Industries as a ‘thrust sector’. As the SME sector is labor intensive, it can create more employment opportunities. For this reason government of Bangladesh has recognized SME as a poverty alleviation tool. As a result they will enhance the standard of living in rural areas. SMEs (Around the world) : Although the definition of what an SME is varies across nations, the most widely......

Words: 6439 - Pages: 26

Premium Essay

Sme in Malaysia

...International Review of Business Research Papers Vol.2. No.1 August 2006 pp.1-14 An Evaluation of SME Development in Malaysia Ali Salman Saleh∗ and Nelson Oly Ndubisi∗∗ Small and medium enterprises (SMEs) in play a vital role in the Malaysian economy and are considered to be the backbone of industrial development in the country. However, few studies examined their development, challenges and future prospects. Therefore, the aim of this paper is to examine and analyse the role of SMEs in different sectors as well as their major contribution to the economy. The paper goes further to review the existing literature as well as the empirical studies in order to identify the major challenges (domestically and globally) that face this sector. The key messages from the studies examined in this paper are that Malaysian SMEs still face many domestic and global challenges in achieving economies of scale and competing internationally. Among the challenges are the low level of technological capabilities and limited skilled human capital resources, a low level of technology and ICT penetration, low levels of research and development (R&D), a substantial orientation towards domestic markets, a high level of international competition (for example, from China and India), a high level of bureaucracy in government agencies, and internal sourcing of funds. These characteristics suggest that government programs and incentives are either insufficient or not delivered......

Words: 6025 - Pages: 25

Free Essay

Strategies of Sme

...Strategies of SME Sony Music Entertainment, in collaboration with BMG, focused on two things. SME would aggressively pursue its digital distribution strategy and exploit new opportunities in packaged media from formats such as UMD and Blu‐ray disc. The goal was synergy. They want to link all the segmented digital music efforts such as in the hardware, online sales, and software units to assist the company in creating a more user‐friendly digital music system. By working closely together, it will make it easier and more efficient to innovate MP3 formats. In addition, pursuing the digital distribution method will also help SME cut down on its manufacturing costs. At the same time, the company also aims to take full advantage of its core competence and exploit its wealth of unique artists to the audiences—the differentiation strategy. By creating a large pool of in‐demand and irreplaceable performers, it will secure SME’s place within the industry and make it harder for competitors to follow suit. To be different is good, but to be different and good at what you do is even better. Consumers would be more willing to spend money on something if they deem it more worthy of their time and money than some other average thing. So the point is to have artists who are good, unique, and popular enough to drive and sustain demand.  The implementation of new marketing strategy with a keen focus on digital distribution strategy and the need to make use of emerging opportunities in the......

Words: 660 - Pages: 3

Premium Essay

Sme in Bangladesh

...OVERVIEW Small and medium enterprises (SMEs) occupy unique position in most of the countries especially in a developing country. They are a primary target for many countries desiring to stimulate economic growth and development. The SMEs sub-sector plays an increasingly dominant role in the technology assimilation and dissemination and in economic development in Bangladesh as well. In Bangladesh, SMEs playing a significant role for the development of our economy by creating employment opportunity and producing important alternative machines and machinery parts for saving huge foreign currency for our country. So as a part of our development strategy, we should intensify our efforts to develop this sector to grow industrial base and volume of foreign trade. As we know the in this age of globalization, it is impossible to stop the flow of foreign goods to any country. Only quality products can meet the challenges in global market. For meeting this situation SMEs need to upgrade their technological capabilities and production facilities in order to produce quality products at a competitive price. DEFINITION Small and medium enterprises or small and medium-sized enterprises (also: Small and Medium-sized Enterprises; acronym in the plural: SMEs; small and medium businesses or small and medium-sized businesses, acronym: SMBs; and variations thereof) are companies whose headcount or turnover falls below certain limits. Enterprises Fixed Capital......

Words: 5315 - Pages: 22

Premium Essay

Sme Banking

...Organization Consulting Project (O.C.P) On SME Banking of BRAC Bank Limited Submitted by : Nishat Farhana Matric No- B061409 22 Batch, BBA Submitted to : Kazi Farzana Lecturer in Management, IIUC,DC. Department of Business Administration International Islamic University Chittagong Date of Submission:12-12-2010 DECLARATION This is to notify that this presented report titled "SME Banking of BRAC Bank Ltd." is written as a requirement of Ocp. I also confirm that this report is prepared solely for the academic requirement and not for any other purposes and for the use of any other party. Signature ........................... Nishat Farhana Matricno.:B061409 Program: BBA, Batch: 22B 1, Major in Marketing Department of Business Administration, International Islamic University Chittagong, Dhaka Campus. Letter of Submission Dated: December 12, 2010 To, The Head, Department of Business Administration, International Islamic University Chittagong, Dhaka Campus. Subject: Submission of research report based on“SME BANKING OF BRAC BANK LTD” Dear Sir, It is very pleasure & opportunity to submit my research report on “SME BANKING OF BRAC BANK LTD”-a study of BRAC BANK Limited. As per my organizations requirement & supervisor’s suggestion and guidance, I have tried my best to make the report effective and standard. I have closely studied the operations & functioning of the company. Still if there is any room for further......

Words: 26135 - Pages: 105

Free Essay

Sme Sector

...SME defined by SBP as an entity having less than 250 employees and Rs. 300 million revenues. SMEs account for a substantial part of the economy; there are about 3.2 million enterprises in Pakistan, of which about 3 million (93%) are SMEs. SMEs spread across the economy with varying density: see exhibit 1-A for the sector wise division of SME sector. According to a survey conducted by SMEDA, this sector contributes more than 30% to GDP and 25% to the country’s total export earnings, and employs close to 70% of the labor force in the manufacturing industry, services, and trade. Their share in manufacturing value addition is estimated to be around 35%. Small & medium businesses play a very critical role when economies are transiting from low to middle income levels yet Pakistan has paid less attention to the growth and development of this crucial pillar of economy. Our report mainly focuses on the financial constraint to growth of this sector. Capital requirements: According to SMEDA there’re 800,000 SMEs in Pakistan that are eligible for bank loans. Another 2.4 million potential businesses that can’t qualify for bank loans mainly rely on other sources of finance for their business needs. Approximately 89% of working capital and 75% of fixed investments are financed from retained earnings. (See exhibit 1-B) Remaining financing needs are fulfilled from external sources which include family and friends, bank loans and other small sources as depicted in exhibit 2-A. Despite......

Words: 1043 - Pages: 5

Free Essay

Sme in Bangladesh

...SUMMARY Overall, the SME FDI is currently an extremely valuable initiative. Through appropriate and careful analysis of the data, public policy can be directed yet more efficiently to further improve competitive advantage of Canada's SMEs. In particular, the baseline survey associated with the SME FDI is an extraordinarily valuable research undertaking. It provides the potential to assess directly the extent to which financing gaps might occur in the capital markets on which SMEs rely. This is an important issue in practical terms, in terms of the role of public policy, and in terms of economic and finance theory. The SME FDI baseline survey data provides, for the first time internationally, a means of empirically testing Nobel prize-winning ideas related to information asymmetry and capital rationing. The data provides a means of providing yet better guidance for public policy with respect to addressing potential capital market imperfections that might constrain growth and economic development of SMEs. As designed, the research initiative can and will provide valuable information about these issues. In summary, the baseline survey undertaken as part of the SME FDI is a potentially invaluable resource with respect to the design, targeting, implementation, and follow-up assessment of public policy approaches to nurturing SME growth and viability. The outcomes of this research process could help Industry Canada and its partners to provide Canadian SMEs with substantial......

Words: 5814 - Pages: 24